কোরান আসলে কার বানী ? পর্ব -৭

কোরান যে আসলেই আল্লাহর বানী নয় তার সুস্পষ্ট স্বীকৃতি আছে খোদ কোরানেই। কথায় বলে কোন অপরাধী যে যত চালাক আর বুদ্ধিমানই হোক না কেন , তার অপরাধ কাজের কিছু না কিছু আলামত সে রেখে যাবেই। তাই যারা কোরান লিখেছে তারাও কোরানে কিছু আলামত রেখেছে।

কোরানেই আছে তার আলামত , যেমন---

নিশ্চয়ই এই কোরআন একজন সম্মানিত রসূলের বানী। সূরা হাক্কা-৬৯:৪০

নিশ্চয় কোরআন সম্মানিত রসূলের বাণী। সূরা তাকবির -৮১:১৯

অতীব সরল স্বীকারোক্তি। কোন প্যাচ নাই। কোরানের বানী হলো আসলে একজন রসূলের বানী তথা মোহাম্মদের বানী। এই আয়াতের কোন প্রেক্ষাপট জানার দরকার নেই। তবে উক্ত আয়াত এ সংকেতও দেয় যে এই কোরান আসলে কোন একক ব্যক্তির লেখা নয়। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষের লেখা। তারাই লিখতে গিয়ে কোন এক পর্যায়ে বলেছে যে এই কোরান হলো একজন রসূলের বানী, এটা তারা লিখেছে এটাই বোঝাতে যেন কেউ পরে বুঝে না বসে যে কোরান অন্য কারও দ্বারা লিখিত বা কথ্য বানী। সরাসরি মোহাম্মদের কাছ থেকে শুনে সাহাবীরা কোরানের বানী লিখলে কখনই এই ধরনের বাক্য থাকত না। মোহাম্মদ এত বোকা ছিলেন না যে তিনি আল্লাহর বানী পাওয়ার দাবী করে এক পর্যায়ে বলে বসবেন যে সেটা তার নিজের বানী। কোরানের আরও অনেক বাক্য আছে যা পড়লে নিশ্চিতভাবে বোঝা যায় , মোহাম্মদ মারা যাওয়ার বহু বছর পর বেশ কয়েকজন মিলেই এটা লিখেছে। যেমন -

সূরা তাকবির

শপথ নিশাবসান ও- ১৭
প্রভাত আগমন কালের-১৮
নিশ্চয় কোরআন সম্মানিত রসূলের বাণী-১৯

লেখকরা বুঝতে পারছিল যে তাদের লেখা কোরানকে লোকে বিশ্বাস নাও করতে পারে , তাই তারা বলছে তাদের লেখা কোরান যে তাদের নিজের কথিত বানী নয়, বরং তা মোহাম্মদের বানী আর সেটা নিশ্চিত করার জন্য তারা শপথ করছে। তারা শপথ করছে - নিশাবসান বা সন্ধ্যা ও প্রভাতের। সর্বজ্ঞানী সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহ কখনও এ ধরনের ফালতু শপথ করবে না। সেই কালে আরবের লোকদের বহু দেব দেবী ছিল। তাদের অন্যতম ছিল লাত , মানাত ও উজ্জা। তারা যে কোন ব্যপারে দৃঢ়তা বোঝাতে তাদের এসব দেব দেবীদের নামে শপথ করত। একই সাথে তারা নানা বস্তুরও শপথ করত যাদেরকে তারা পবিত্র বলে মনে করত। ঠিক হুবহু শপথ করা হচ্ছে কোরানেও , যেমন -

সূরা আয-যারিয়াত (৫১)

কসম ঝঞ্ঝাবায়ুর।
অতঃপর বোঝা বহনকারী মেঘের।
অতঃপর মৃদু চলমান জলযানের, ৩
অতঃপর কর্ম বন্টনকারী ফেরেশতাগণের,
পথবিশিষ্ট আকাশের কসম। ৭

সূরা আত তুর(৫২)

কসম তূরপর্বতের,
এবং লিখিত কিতাবের,
প্রশস্ত পত্রে,৩
কসম বায়তুল-মামুর তথা আবাদ গৃহের ৪
এবং সমুন্নত ছাদের, ৫
এবং উত্তাল সমুদ্রের, ৬

অতএব, আমি ছুটন্ত তারকারাজির শপথ করছি। সূরা আল ওয়াকিয়া-৫৬:৭৫

কখনই নয়। চন্দ্রের শপথ,শপথ রাত্রির যখন তার অবসান হয়,শপথ প্রভাতকালের যখন তা আলোকোদ্ভাসিত হয়, । সূরা -আল মুদাচ্ছির -৭৫:৩২,৩৩,৩৪

সর্ব শক্তিমান আল্লাহ তার বানী বিশ্বাস করাতে কখনও জড় বস্তুর কসম কাটবে না বা শপথ করবে না। মানুষ আল্লাহর নামে শপথ করে , বা পূর্বে দেব দেবীর নামে শপথ করত তার কারন হলো শপথের নামে মিথ্যা কথা বললে আল্লাহ বা দেব দেবী তাকে এক সময় শাস্তি দেবে। অর্থাৎ এখানে অবশ্যই শপথকারী মানুষকে শপথকৃত আল্লাহ বা দেব দেবীর চাইতে অনেক দুর্বল বা শক্তিহীন হতে হয়। কিন্তু কোরানে সম্পূর্ন উল্টো কথা বানী দেখা যাচ্ছে। সর্ব শক্তিমান আল্লাহ ঝঞ্ঝাবায়ূ, মেঘ , জলযান , আকাশ, বাতাস, পাহাড়, সাগর, চাদ , উল্কা ইত্যাদি জড় বস্তুর নামে কসম কাটছে। তাহলে কি এইসব জড় বস্তু আল্লাহর চাইতে বেশী মর্যাদাবান বা শক্তিশালী? পূর্বে আরবরা বিভিন্ন জড়বস্তুর নামে কসম কাটত কারন তারা মনে করত সেসব অতীব পবিত্র বস্তু ও কোন না কোন দেব বা দেবী তাদের পিছনে ক্রিয়াশীল। সুতরাং খুব সহজেই বোঝা যাচ্ছে , আরবরা কোরান লিখতে গিয়ে তাদের পূর্ববর্তী সংস্কার ত্যাগ করতে পারে নি। যে কায়দায় তারা আগে তাদের দেব দেবী বা তাদের কাছে বিবেচিত পবিত্র বস্তুর নামে শপথ করত, কোরান লিখতে গিয়ে তারা ঠিক একই কায়দায় আল্লাহকে দিয়ে শপথ করাচ্ছে। তাদের মানসিক জ্ঞানের স্তর এতটা উন্নত ছিল না এটা উপলব্ধি করতে যে , আল্লাহকে কোন কিছু শপথ করতে হয় না। আল্লাহ শপথ তখনই করবে যদি তার চাইতে বেশী শক্তিশালী বা মর্যাদাশীল কারও অস্তিত্ব থাকে যা তাকে শাস্তি দিতে সক্ষম। কিন্তু সর্ব শক্তিমান ও সর্ব জ্ঞানী আল্লাহর চাইতে কেউ বেশী শক্তিশালী বা মর্যাদাবান থাকতে পারে না , আর তাই আল্লাহ কারও নামেই কসম বা শপথ করতে পারে না।

কিন্তু আল্লাহর বান্দাদেরকে এসব বলেও বোঝান যাবে না , কারন তাদের বোধ বুদ্ধি সব ভোতা হয়ে গেছে। কোনকিছুই তারা আর চিন্তা করতে বা বিশ্লেষণ করতে সক্ষম নয়।

কোরান যে কতকগুলো আরব কর্তৃক লিখিত একটা কিতাব , সর্ব শক্তিমান ও সর্বজ্ঞানী আল্লাহর বানী নয়, উপরোক্ত উদাহরন থেকে যে কোন সাধারন জ্ঞানের অধিকারী মানুষেরই বোঝার কথা।

চলবে-----------

মন্তব্যসমূহ

  1. এসব লিখে যদি তোমার সংসার চালানোর উপার্জন হয় ,যদি সন্তানের মুখে দুটো ভাত তুলে দেয়ার জন‍্য হয় ,তাহলে ঠিক আছে...জান বাঁচানো ফরজ

    উত্তরমুছুন
  2. সূরা হাক্ক ; অায়াত৪৯( 69:49)

    "আর আমি অবশ্যই জানি যে, তোমাদের মধ্যে কতক রয়েছে মিথ্যারোপকারী।"


    (দুঃখের বিষয় হলো তুমি এর পরের অায়াত গুলো পড়ো নাই। এ অায়ায় একই সূরাহ এর। এখানে তুমার কথা ই বলা হচ্ছে এতে কোন সন্দেহ নাই। সুবহানাল্লাহ। ) (এটা রাসূলের বাণী কিন্তু এটা রাসূল এর নিজস্ব বাণী নয়। এর পরবর্তী প্রসঙ্গ না পড়ে বা না বুঝে হুট করে ই একটা বলে ফেল। এই অায়াত এর পরের অায়াত গুলো তুমার জন্য যা তুমার পড়ে দেখা দরকার। এইসব লিখে কুরআন এর প্রতি গবেষণা র ইচ্ছা বাড়িয়ে দাও অার কুরআন এর বাণী গুলো র সত্যতা নিশ্চিত হয় ই হয় এবং সমস্ত কথা যা তোমাদের নিয়ে রয়েছে তা সত্য প্রমাণিত হয়।)

    উত্তরমুছুন
  3. হযরত মোহাম্মদ সাঃ যদি নিজে কোরান রচনা কোরতেন তাহলে সমুদ্র,বাতাস,পাহাড় ইত্যাদি এগুলোর শপথ কোরতেন না। সমস্ত জাগায় সর্ব শক্তিমান আল্লাহর শপথ কোরতেন। অাকাশ,বাতাস নিয়ে শপথ কোরতোনা। এতে প্রমাণ হচ্ছে যে এটি সর্ব শক্তিমান আল্লাহর বানি। অাপনি মানুষ তাই মানুষের মতো চিন্তা ভাবনা,সর্ব শক্তিমান আল্লাহ তিনি এক তার মতো অার কেউ নেই। অাপনি এখানে যে সমস্ত অায়াত রেফারেন্স দিয়েছেন সেগুলোর অনুবাদ ভুল। অাপনি দিয়েছেন ঃ নিশ্চয়ই এই কোরআন একজন সম্মানিত রসূলের বানী। সূরা হাক্কা-৬৯:৪০

    সঠিক ঃ اِنَّہٗ لَقَوۡلُ رَسُوۡلٍ کَرِیۡمٍ ﴿ۚۙ۴۰﴾
    ইন্নাহূলাকাওলুরাছূলিন কারীম।

    অনুবাদ- নিশ্চয়ই এই কুরআন এক সম্মানিত রাসূলের বাহিত বার্তা।

    That this is verily the word of an honoured Messenger [i.e. Jibrael (Gabriel) or Muhammad SAW which he has brought from Allah].

    বার্তা ও বানি এক জিনিস নয়। অাপনার মতো কয়েকটা কুলাংগার সকল ধর্মে পাওয়া জায়, তাই বলে মিথ্যা কখনো সত্যি বানানে সম্ভব না।

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মুহাম্মদকে কি ডাকাত দলের সর্দার বলা যাবে?

ইসলাম নারীদেরকে কুত্তা ও শয়তানের সমান বলে নারীকে দিয়েছে সুমহান মর্যাদা