কেন কোরান আল্লাহর বানী নয়, পর্ব -১

কোরান আসলে নিজেই প্রমান করে যে সে আল্লাহর বানী নয়। কারন কোরানের মধ্যে নানারকম উদ্ভট আজগুবি তথ্য ছাড়াও স্ববিরোধী বহু তথ্য আছে, তাছাড়া কোরানের বাক্যগঠন রীতি , শব্দ চয়ন খুবই নিম্নমানের ও বিরক্তিকর, যা প্রমান করে তা সর্বজ্ঞানী আল্লাহ বা ঈশ্বরের কাছ থেকে আসতে পারে না।

যেমন কোরান বলছে -

এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এস। তোমাদের সেসব সাহায্যকারীদেরকে সঙ্গে নাও-এক আল্লাহকে ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।সূরা বাকারা - ২: ২৩

এটা একটা উদ্ভট ও আজগুবি চ্যালেঞ্জ তথাকথিত সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহর। সমগ্র বিশ্ব ব্রন্ডান্ডের মালিক , সকল ক্ষমতার অধিকারী , সবজান্তা আল্লাহ কখনও তুচ্ছ ও মূর্খ মানুষকে এ ধরনের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে না। কোন প্রকৃত জ্ঞানী কখনো কোন মূর্খ লোকের ফালতু কথাকে পাত্তা দেবে না বা তাকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ করবে না। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীহিসাবে কখনই কাউকে ক্ষমতার চ্যালেঞ্জ জানাবে না। কেন চ্যালেঞ্জ জানাবে না ? কারন হলো - তাদের উচ্চ মর্যাদা ও সম্মান তাদেরকে এ ধরনের ফালতু চ্যালেঞ্জ জানাতে বিরত রাখবে। সুতরাং দ্বীন দুনিয়ার মালিক সর্মময় ক্ষমতার অধিকারী কিভাবে কিছু মূর্খ ও অসভ্য আরবের বাতুল কথায় তাদেরকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ করতে পারে ? যেহেতু কোরানে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে দেখা যায় , তার অর্থ এটা আল্লাহর বানী নয়। আল্লাহ মানুষের জন্য কোন বানী পাঠাতে চাইলে তা নিজে হোক বা কারো মাধ্যমে যদি পাঠায় তাহলে সে কখনো কাউকে চ্যালেঞ্জ করে তা বিশ্বাস করতে বলতে পারে না। তার বানী সে পাঠাবে , তার বানীর কারুকার্য ও মৌলিকত্ব দেখেই মানুষ বিশ্বাস করবে বা করবে না। কিন্তু তার কথা বিশ্বাস করাতে ফালতু লোকের মত চ্যালেঞ্জ করতে যাবে না। চ্যালেঞ্জ হয় সমান সমান ক্ষমতার অধিকারীদের মধ্যে। যেমন - মুষ্টি যুদ্ধ , দাবা , কুস্তি এসবে। সে ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বীরা পরস্পর প্রায় সমান দক্ষতা ও ক্ষমতার অধিকারী। কোন প্রকৃত দক্ষ মুষ্টি যোদ্ধা বা কুস্তিগীর কখনও রাস্তার ফালতু লোককে চ্যালেঞ্জ করবে না। সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহর কাছে অসভ্য ও মূর্খ আরবরা নিতান্তই তুচ্ছ লোক , এতটাই তুচ্ছ যে তা গণনাতেও আনা যায় না। সুতরাং এই ফালতু চ্যালেঞ্জ প্রমান করে যে কোরান কোন আল্লাহর বানী নয়। 

এর পরের আয়াত দেখা যাক-----

আর যদি তা না পার-অবশ্য তা তোমরা কখনও পারবে না, তাহলে সে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা কর, যার জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর। যা প্রস্তুত করা হয়েছে কাফেরদের জন্য।সূরা বাকারা - ২: ২৪

চ্যালেঞ্জ জানানোর সাথে সাথেই আবার চ্যালেঞ্জ দানকারী যদি নিজেই পরমূহুর্তে তার রায় দিয়ে দেয় তাহলে বুঝতে হবে চ্যালেঞ্জ দানকারীর মাথায় সমস্যা আছে। ২৩ নং আয়াতে চ্যালেঞ্জ দিয়েই পরের আয়াত ২৪ তে বলছে - কেউ সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহন করে জয়ী হতে পারবে না। এটা একটা পাগলের প্রলাপ। উদাহরন -

রাস্তায় ঘুরে বেড়ানে একটা দিগম্বর পাগল বলছে - আমি হলাম দেশের প্রেসিডেন্ট , পারলে কেউ আমাকে আটকাতে আসুক। আমাকে আটকানোর কোন ক্ষমতা কারও নেই। 

বলাবাহুল্য, পাগলের এই চ্যালেঞ্জ কেউ কিন্তু গ্রহন করতে যায় না আর তাকে কেউ আটকাতেও যায় না। তাতে কি প্রমানিত হলো সেই পাগল দেশের প্রেসিডেন্ট ? উপরের দুইটি আয়াত ২৩ ও ২৪ এর বিষয় বস্তু হুবহু একই রকম নয় ?

ধরা যাক , কাজি নজরুল ইসলাম চ্যালেঞ্জ করল - কেউ পারলে আমার মত একটা কবিতা লিখে আনুক তো । বহু লোকই তার চ্যালেঞ্জ গ্রহন করে কবিতা লিখে নিয়ে নজরুলের কাছে দিল। নজরুল সেগুলো না পড়েই বলে দিল কেউই তার মত লিখতে পারে নি। সেটা কিভাবে সম্ভব ? সম্ভব কারন নজরুলের মত কবিতা একমাত্র নজরুলের পক্ষেই লেখা সম্ভব। যদি রহিম বা করিম কোন কবিতা লেখে সেটা হবে - রহিম বা করিম কবিতা , কখনই তা নজরুলের কবিতা হবে না। সর্বোপরি , রহিম বা করিম- এর কবিতা নজরুলের কবিতার মত হয়েছে কি না , সে সিদ্ধান্তটা নিচ্ছে কে ? নিচ্ছে তো স্বয়ং নজরুল। তো নজরুল তো কখনই স্বীকার করবে না যে তাদের কবিতা তার নিজের মত হয়েছে। সুতরাং নজরুলের চ্যালেঞ্জ কিন্তু টিকে গেল। এখন এরপর নজরুল যদি দাবী করে - সে যে কবিতা লেখে সেগুলো আল্লাহর কাছ থেকে বানী পেয়ে লেখে, সেটা কি সত্য বলে মানতে হবে ? যদিও তার চ্যালেঞ্জ কিন্তু টিকে গেল। তার পরেও কি বিশ্বাস করতে হবে তার কবিতাগুলো সব আল্লাহর কাছ থেকে বানী পেয়ে লেখা ?

অর্থাৎ কুরাইশদের কেউ যদি কোরানের বানীর মত বা তার চাইতে ভাল বানীও লিখে নিয়ে মুহাম্মদের কাছে হাজির হতো , তাহলেও সেটা বিচারের মালিক তো ছিল স্বয়ং মুহাম্মদ। তো মুহাম্মদ কি কখনও স্বীকার করবেন যে কুরাইশদের লেখা কথা কোরানের বানীর মত হয়েছে ? কখনই সেটা স্বীকার করবেন না। তখন এটা কি তাহলে তার কথিত কোরানের বানী আল্লাহর বানী হিসাবে প্রমানের যুক্তি হলো ? তার পরেও আমরা কোরানের কিছু বাক্য দেখি - উদাহরন হিসাবে সূরা কাফিরুন নেয়া যাক 

সূরা কাফিরুন - ১০৯ :১-৬

হে কাফের কুল ,
আমি এবাদত করিনা, তোমরা যার এবাদত কর।
এবং তোমরাও এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি
এবং আমি এবাদতকারী নই, যার এবাদত তোমরা কর।
তোমরা এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি।
তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্যে এবং আমার ধর্ম আমার জন্যে।


এই ধরনের কথা কি দুনিয়া শুদ্ধ কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন উচ্চারন করে কি না বা হাজার হাজার বছর আগ থেকে উচ্চারন করত কি না ? যে কোন সাধারন কান্ডজ্ঞান সম্পন্ন মানুষ কি এ ধরনের কথা লিখতে বা বলতে পারে না ? তার পরেও দেখা যাচ্ছে এখানে একই বক্তব্য বার বার করে বলা হচ্ছে যা কিন্তু মূল বক্তব্যকে বিরক্তিকর বা এক ঘেয়ে করে তুলেছে। উক্ত ৬ টা আয়াতকে কিন্তু নিচের ভাবে সহজেই লেখা যেত -

হে কাফেরকুল, তোমরা যার এবাদত কর , আমি তার এবাদত করি না
এবং আমি যার এবাদত করি, তোমরা তার এবাদত কর না।
তোমার ধর্ম তোমার কাছে আর আমার ধর্ম আমার কাছে
 

তখন আয়াত হতো মাত্র তিনটা। কিন্তু একই কথা বার বার বলে উক্ত দুইটা আয়াতকে ৬টা আয়াত বানিয়েছে এবং বক্তব্যটাকে বিরক্তিকর বা এক ঘেয়ে করে ফেলেছে। অথচ আমরা যখন আরবী কোরান পড়ি তখন সেটা কিন্তু বুঝতে পারি না , মনে হয় আল্লাহর সুললিত বানী। একটু সুর করে পড়লে বড়ই মুধর লাগে তখন , বিরক্তিকর মনে হয় না কারন আমরা আরবী ভাষা জানি না। আরবী ভাষার অশ্লীল গালিগালাজও সুর করে যদি কোন মৌলভি পড়ে , তাহলেও সেটা আমাদের কাছে কোরানের বানী মনে হবে। 

সুতরাং দেখা গেল, আল্লাহর বানীর মধ্যে এমন কোন অতিরিক্ত সৌন্দর্য বা মাহাত্ম নাই যা সত্যি বিশেষ উল্লেখ করার মত বরং কোরানের বানী বার বার একই বক্তব্য তুলে ধরার জন্য বেশ বিরক্তিকর এবং সাহিত্যিক মানের দিক থেকে তা খুবই নিম্নমানের ও বিরক্তিকর। এ ধরনের বানী লেখা সম্ভব একমাত্র তাদের পক্ষেই যাদের লেখা পড়া কম বা আদিম পর্যায়ের। 

এখন এধরনের নিম্ন মানের ও বিরক্তিকর বক্তব্য কিভাবে আল্লাহর বানী হতে পারে তা একেবারেই বোধগম্য নয়।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মুহাম্মদকে কি ডাকাত দলের সর্দার বলা যাবে?

কোরান আসলে কার বানী ? পর্ব -৭

ইসলাম নারীদেরকে কুত্তা ও শয়তানের সমান বলে নারীকে দিয়েছে সুমহান মর্যাদা