কেন কোরান আল্লাহর বানী নয় , পর্ব -৬
কেউ উদার মন নিয়ে যদি অর্থগুলো ভালমতো আত্মস্থ করে কোরান পড়ে , সে খুব দ্রুতই আবিস্কার করে ফেলবে যে এ ধরনের উদ্ভট জগাখিচুড়ি কথাবার্তা আল্লাহর হতে পারে না। মজার ব্যপার হলো এ ধরনের উদ্ভট কথার মধ্যে আল্লাহর বান্দারা বর্তমানে অলৌকিকত্ব খুজে পায়।
উদ্ভট, গাজাখুরি ও অসংলগ্ন বাক্যের মধ্যে মহা বিজ্ঞান বা অলৌকিকত্ব আবিস্কার একটা সাম্প্রতিক প্রবনতা। এটার কারনও বোধগম্য। যারা ইসলাম প্রচার করে , তারা জানে এইসব বাক্যগুলোকে সমালোচনাকারীরা কোরানের দুর্বল পয়েন্ট হিসাবে আক্রমন করে। তাই তারা নিজেরা আগেই সেই বাক্যগুলোকে অলৌকিক বা মহা বৈজ্ঞানিক বাক্য বলে নানারকম উদ্ভট ও আজগুবি ব্যাখ্যা দিয়ে মূলত : মুমিন বান্দাদের মন যাতে সন্দেহপ্রবন না হয়ে পড়ে সে বিষয়টাকে নিশ্চিত করার চেষ্টা করে। যেমন- বিভিন্ন সূরার প্রারম্ভেই - আলীফ, লাম , রীম , রা ইত্যাদি। এসব পুরোই অর্থহীন কতকগুলো শব্দ রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের বিখ্যাত সেই হিং টিং ছট এর মত। বর্তমানে আমাদের দেশে যে সব ওঝা সাপের বিষ নামায় তারা এইসব উদ্ভট ও অর্থহীন শব্দ উচ্চারন করে মন্ত্রের নামে। সেই ১৪০০ বছর আগের আরব দেশেও এরকম অনেক ওঝা বা যাদুকর ছিল তারাও এসব অর্থহীন শব্দ ব্যবহার করত তাদের মন্ত্রে। মোহাম্মদ সেই রীতিতেই তার কোরানে এই ধরনের উদ্ভট ও অর্থহীন শব্দ ব্যবহার করেছে। কিন্তু আশ পাশের ইহুদি ও খৃষ্টানরা তাদের কিতাব তৌরাত বা ইঞ্জিলে এ ধরনের উদ্ভট ও অর্থহীন শব্দ বা বাক্য নেই। তাই তারা মোহাম্মদকে এ সম্পর্কে প্রশ্ন করেছে , আর তখন সাথে সাথেই মোহাম্মদ নাজিল করেছে নিচের আয়াত -
তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। তাতে কিছু আয়াত রয়েছে সুস্পষ্ট, সেগুলোই কিতাবের আসল অংশ। আর অন্যগুলো রূপক। সুতরাং যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা অনুসরণ করে ফিৎনা বিস্তার এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশে তন্মধ্যেকার রূপকগুলোর। আর সেগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলেনঃ আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি। এই সবই আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। আর বোধশক্তি সম্পন্নেরা ছাড়া অপর কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না।সূরা আল ইমরান - ০৩: ০৭
দেখুন, এখানে বলছে কোরানে কিছু আয়াত সুস্পষ্ট আর কিছু রূপক। কিন্তু কোন আয়াত সুস্পষ্ট আর কোনটা রূপক কোরানে কি সেটা নির্দিষ্ট করা আছে ? নেই। তাই যদি না থাকে , কেউ কোরান পড়তে গিয়ে যদি আল্লাহ নির্ধারিত সুস্পস্ট আয়াতকে রূপক মনে করে , আর রূপক আয়াতকে সুস্পষ্ট মনে করে , তাহলে যে মহা ভ্রান্তিতে পড়ে যাবে , তার দায় দায়ীত্ব কে নেবে ? বড় বড় আলেমরা বলেছে - বিভিন্ন সূরার উক্ত সেই অর্থহীন শব্দ বা বাক্যগুলো নাকি রূপক। ভাল কথা। আমরা জানি রূপক বাক্য বা শব্দেরও কিন্তু আপাত একটা অর্থ থাকে যা থেকে প্রকৃত অর্থ বোঝার সংকেত পাওয়া যায়।
উদাহরন - তার মুখটা দেখতে আষাঢ়ে মেঘের মত লাগছে।
কারও মুখ অবশ্যই আষাঢ়ের মেঘের মত দেখায় না। উক্ত বাক্যটায় আষাঢ়ে মেঘ একটা রূপক। আর পুরো বাক্যের অর্থ হলো - তার মুখটা বেশ ভারী দেখাচ্ছে অর্থাৎ সে খুব দু:খা বা বেদনার মধ্যে আছে। এটাই হলো এই রূপক শব্দ বা বাক্যের অর্থ। তার অর্থ রূপক শব্দ বা বাক্য কিন্তু কোন অর্থহীন শব্দ বা বাক্য নয়। আর রূপক বাক্য বা শব্দ থেকে প্রকৃত অর্থটাও কিন্তু আচ করা যায়। এখন আমরা যদি সূরা আল ইমরানের ১ নং আয়াতটা দেখি -
আলিফ লাম মীম। সূরা আল ইমরান - ৩: ১
উক্ত আলিফ লাম মীম এর কি অর্থ আছে যা থেকে আমরা প্রকৃত অর্থ বের করতে পারি? যেহেতু উক্ত শব্দগুলো বা বর্ণগুলোর আপাত: কোন অর্থ নেই , তাই এগুলোকে রূপক বলা যায় না কোনভাবেই। সুতরাং কোরানের বিবরন আবারও উদ্ভট প্রমানিত হলো। মোহাম্মদ বিষয়টা বুঝতে পেরে সাথে সাথেই উক্ত ৭ নং আয়াতে জুড়ে দিয়েছেন এই বলে যে , আর সেগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। তাহলে সমস্যা তো আরও বাড়ল। আল্লাহ ছাড়া যার অর্থ কেউ জানে না তা কোরানের মধ্যে ঢুকানোর কোন মানে হয় না। এটা হবে আরও বেশী অর্থহীন ও উদ্ভট। কিন্তু একই সাথে মুহাম্মদ বলছেন - সুতরাং যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা অনুসরণ করে ফিৎনা বিস্তার এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশে তন্মধ্যেকার রূপকগুলোর। তাহলে জটিলতা আরও বাড়ল। কারন উক্ত রূপক আয়াতগুলোকে কাফের বা মুশরিকরা নানা রকম মনগড়া অর্থ করে মানুষের মধ্যে ফিতনার বিস্তার করে। কি আজব কান্ড! তাহলে মোহাম্মদ কোরানের মধ্যে এইসব অর্থহীন বাক্য ঢুকালেন কেন ? যে সব অর্থহীন বাক্যের অর্থ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, আবার একই সাথে সেগুলোর মনগড়া অর্থ তৈরী করে কাফেররা ফিতনা সৃষ্টি করে , তাহলে সেই বাক্য কোরানের মধ্যে রাখার দরকারটা কি ?
আবার বলছে - আর সেগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলেনঃ আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি। কি উদ্ভট ও আজগুবি কথা! আমরা জানি জ্ঞানী ব্যক্তি তারাই যারা প্রতিটি বিষয় পরীক্ষা নিরক্ষা করে প্রকৃত বিষয় সম্পর্কে অবগত হতে চেষ্টা করে। অথচ কোরান বলছে তারাই প্রকৃত গভীর জ্ঞানী যারা উদ্ভট ও অর্থহীন শব্দকে অন্ধের মত বিনা প্রশ্নে আল্লাহর বানী হিসাবে বিশ্বাস করে। অর্থাৎ যারা অন্ধ , বধির ও মহা মূর্খ তারাই হলো ইসলামী বিধান মতে মহা জ্ঞানী। আজকে যে ইসলামী দুনিয়া জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় অমুসলিমদের চেয়ে হাজার বছর পিছনে পড়ে আছে , তার কারনটাও এখন বোধগম্য হলো। যে ধর্ম অন্ধ বধির ও মূর্খ লোকদেরকে প্রকৃত জ্ঞানী মনে করে , সেই ধর্মের মানুষ আর যাই হোক জ্ঞান চর্চা করবে না কখনও।
আর বস্তুত:পক্ষে এই ধরনের উদ্ভট , আজগুবি , যুক্তিহীন ও অর্থহীন কথা কখনও মহাজ্ঞানী আল্লাহ বলবে না , তাই কোরান আল্লাহর বানী হতেই পারে না। আর কোরান যে আল্লাহর বানী নয় সেটা কিন্তু কোরান নিজেও আকার ইঙ্গিতে বলে দেয় যেমন -
এরা কি লক্ষ্য করে না কোরআনের প্রতি? পক্ষান্তরে এটা যদি আল্লাহ ব্যতীত অপর কারও পক্ষ থেকে হত, তবে এতো অবশ্যই বহু বৈপরিত্য দেখতে পেত।সূরা নিসা -৪: ৮২
আর কোরানে বহু রকম বৈপরীত্য বিদ্যমান। তার একটা এতক্ষন আলোচনা করা হলো। সেটা হলো - প্রকৃত জ্ঞানী তারাই যারা প্রশ্নের মাধ্যমে কোন বিষয়ের ভিতর বাইরের বিষয়াদির প্রকৃত অর্থ কার্য কারন তত্ত্বের ভিত্তিতে যৌক্তিকভাবে জানার চেষ্টা করে তারা। কিন্তু কোরান বলছে প্রকৃত জ্ঞানী তারাই যারা অন্ধ , মূর্খ ও বধির।
সুতরাং দেখা যায় কোরান নিজেই আকার ইঙ্গিতে বলছে যে সে আসলে আল্লাহর বানী নয়।
একবার দেখলাম জোকার নায়েক নামের এক তথাকথিত ইসলামী বিজ্ঞানী উক্ত ৪:৮২ আয়াত উল্লেখ করে দাবী করছে যে কেউ নাকি এ পর্যন্ত কোরানের মধ্যে কোন বৈপরিত্য দেখাতে পারে নি। হ্যা, পারে নি। কিন্তু কেন পারে নি ? কারন হলো , যারা এই বৈপরীত্য গুলো স্বীকার করবে , তারা কিন্তু সবাই মুসলমান। কোন অমুসলিম সেই বৈপরীত্য গুলো স্বীকার করলে চলবে না। আর মুসলমানদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেও তো তারা স্বীকার করবে না যে কোরানে কোন বৈপরীত্য আছে। ঠিক যেমন আল্লাহ একবার চ্যলেঞ্জ করছে - পারলে কোরানের মত কিছু বাক্য লিখে আন দেখি ? কিন্তু কথা হলো - কোরানের চাইতেও অনেক ভাল বাক্য লিখে আনলেও কোন মুসলমান কি কখনও স্বীকার করবে যে তা কোরানের চাইতেও ভাল হয়েছে ? কারন তারা তো সব অন্ধ , বধির ও মূর্খ। কোরান তাদেরকে অন্ধ ও মূর্খ থাকার জন্যেই উৎসাহিত করছে আর বলছে মূর্খরাই হলো প্রকৃত জ্ঞানী ব্যক্তি। তো একজন মূর্খ লোক কিভাবে বুঝবে যে নিরক্ষর মোহাম্মদ বা তার অর্ধ শিক্ষিত সাহাবীদের রচিত আদিম কায়দায় রচিত কোরানের বানীর গঠন বেশী সুন্দর নাকি কোন প্রতিভাবান কবির বাক্য গঠন বেশী সুন্দর? বলা বাহুল্য তারা বুঝতে পারে না , আর তাই কোরানের চ্যালেঞ্জ আজ পর্যন্ত কেউ গ্রহন করে তাকে পরাস্ত করতে পারে নি। আর এর দ্বারা এ প্রবাদ বাক্যটির প্রকৃত তাৎপর্যও বোঝা যায় তা হলো -
পাগলের সুখ নিজের মনে ।
চলবে----------------------------
উদ্ভট, গাজাখুরি ও অসংলগ্ন বাক্যের মধ্যে মহা বিজ্ঞান বা অলৌকিকত্ব আবিস্কার একটা সাম্প্রতিক প্রবনতা। এটার কারনও বোধগম্য। যারা ইসলাম প্রচার করে , তারা জানে এইসব বাক্যগুলোকে সমালোচনাকারীরা কোরানের দুর্বল পয়েন্ট হিসাবে আক্রমন করে। তাই তারা নিজেরা আগেই সেই বাক্যগুলোকে অলৌকিক বা মহা বৈজ্ঞানিক বাক্য বলে নানারকম উদ্ভট ও আজগুবি ব্যাখ্যা দিয়ে মূলত : মুমিন বান্দাদের মন যাতে সন্দেহপ্রবন না হয়ে পড়ে সে বিষয়টাকে নিশ্চিত করার চেষ্টা করে। যেমন- বিভিন্ন সূরার প্রারম্ভেই - আলীফ, লাম , রীম , রা ইত্যাদি। এসব পুরোই অর্থহীন কতকগুলো শব্দ রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের বিখ্যাত সেই হিং টিং ছট এর মত। বর্তমানে আমাদের দেশে যে সব ওঝা সাপের বিষ নামায় তারা এইসব উদ্ভট ও অর্থহীন শব্দ উচ্চারন করে মন্ত্রের নামে। সেই ১৪০০ বছর আগের আরব দেশেও এরকম অনেক ওঝা বা যাদুকর ছিল তারাও এসব অর্থহীন শব্দ ব্যবহার করত তাদের মন্ত্রে। মোহাম্মদ সেই রীতিতেই তার কোরানে এই ধরনের উদ্ভট ও অর্থহীন শব্দ ব্যবহার করেছে। কিন্তু আশ পাশের ইহুদি ও খৃষ্টানরা তাদের কিতাব তৌরাত বা ইঞ্জিলে এ ধরনের উদ্ভট ও অর্থহীন শব্দ বা বাক্য নেই। তাই তারা মোহাম্মদকে এ সম্পর্কে প্রশ্ন করেছে , আর তখন সাথে সাথেই মোহাম্মদ নাজিল করেছে নিচের আয়াত -
তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। তাতে কিছু আয়াত রয়েছে সুস্পষ্ট, সেগুলোই কিতাবের আসল অংশ। আর অন্যগুলো রূপক। সুতরাং যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা অনুসরণ করে ফিৎনা বিস্তার এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশে তন্মধ্যেকার রূপকগুলোর। আর সেগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলেনঃ আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি। এই সবই আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। আর বোধশক্তি সম্পন্নেরা ছাড়া অপর কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না।সূরা আল ইমরান - ০৩: ০৭
দেখুন, এখানে বলছে কোরানে কিছু আয়াত সুস্পষ্ট আর কিছু রূপক। কিন্তু কোন আয়াত সুস্পষ্ট আর কোনটা রূপক কোরানে কি সেটা নির্দিষ্ট করা আছে ? নেই। তাই যদি না থাকে , কেউ কোরান পড়তে গিয়ে যদি আল্লাহ নির্ধারিত সুস্পস্ট আয়াতকে রূপক মনে করে , আর রূপক আয়াতকে সুস্পষ্ট মনে করে , তাহলে যে মহা ভ্রান্তিতে পড়ে যাবে , তার দায় দায়ীত্ব কে নেবে ? বড় বড় আলেমরা বলেছে - বিভিন্ন সূরার উক্ত সেই অর্থহীন শব্দ বা বাক্যগুলো নাকি রূপক। ভাল কথা। আমরা জানি রূপক বাক্য বা শব্দেরও কিন্তু আপাত একটা অর্থ থাকে যা থেকে প্রকৃত অর্থ বোঝার সংকেত পাওয়া যায়।
উদাহরন - তার মুখটা দেখতে আষাঢ়ে মেঘের মত লাগছে।
কারও মুখ অবশ্যই আষাঢ়ের মেঘের মত দেখায় না। উক্ত বাক্যটায় আষাঢ়ে মেঘ একটা রূপক। আর পুরো বাক্যের অর্থ হলো - তার মুখটা বেশ ভারী দেখাচ্ছে অর্থাৎ সে খুব দু:খা বা বেদনার মধ্যে আছে। এটাই হলো এই রূপক শব্দ বা বাক্যের অর্থ। তার অর্থ রূপক শব্দ বা বাক্য কিন্তু কোন অর্থহীন শব্দ বা বাক্য নয়। আর রূপক বাক্য বা শব্দ থেকে প্রকৃত অর্থটাও কিন্তু আচ করা যায়। এখন আমরা যদি সূরা আল ইমরানের ১ নং আয়াতটা দেখি -
আলিফ লাম মীম। সূরা আল ইমরান - ৩: ১
উক্ত আলিফ লাম মীম এর কি অর্থ আছে যা থেকে আমরা প্রকৃত অর্থ বের করতে পারি? যেহেতু উক্ত শব্দগুলো বা বর্ণগুলোর আপাত: কোন অর্থ নেই , তাই এগুলোকে রূপক বলা যায় না কোনভাবেই। সুতরাং কোরানের বিবরন আবারও উদ্ভট প্রমানিত হলো। মোহাম্মদ বিষয়টা বুঝতে পেরে সাথে সাথেই উক্ত ৭ নং আয়াতে জুড়ে দিয়েছেন এই বলে যে , আর সেগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। তাহলে সমস্যা তো আরও বাড়ল। আল্লাহ ছাড়া যার অর্থ কেউ জানে না তা কোরানের মধ্যে ঢুকানোর কোন মানে হয় না। এটা হবে আরও বেশী অর্থহীন ও উদ্ভট। কিন্তু একই সাথে মুহাম্মদ বলছেন - সুতরাং যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা অনুসরণ করে ফিৎনা বিস্তার এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশে তন্মধ্যেকার রূপকগুলোর। তাহলে জটিলতা আরও বাড়ল। কারন উক্ত রূপক আয়াতগুলোকে কাফের বা মুশরিকরা নানা রকম মনগড়া অর্থ করে মানুষের মধ্যে ফিতনার বিস্তার করে। কি আজব কান্ড! তাহলে মোহাম্মদ কোরানের মধ্যে এইসব অর্থহীন বাক্য ঢুকালেন কেন ? যে সব অর্থহীন বাক্যের অর্থ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, আবার একই সাথে সেগুলোর মনগড়া অর্থ তৈরী করে কাফেররা ফিতনা সৃষ্টি করে , তাহলে সেই বাক্য কোরানের মধ্যে রাখার দরকারটা কি ?
আবার বলছে - আর সেগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলেনঃ আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি। কি উদ্ভট ও আজগুবি কথা! আমরা জানি জ্ঞানী ব্যক্তি তারাই যারা প্রতিটি বিষয় পরীক্ষা নিরক্ষা করে প্রকৃত বিষয় সম্পর্কে অবগত হতে চেষ্টা করে। অথচ কোরান বলছে তারাই প্রকৃত গভীর জ্ঞানী যারা উদ্ভট ও অর্থহীন শব্দকে অন্ধের মত বিনা প্রশ্নে আল্লাহর বানী হিসাবে বিশ্বাস করে। অর্থাৎ যারা অন্ধ , বধির ও মহা মূর্খ তারাই হলো ইসলামী বিধান মতে মহা জ্ঞানী। আজকে যে ইসলামী দুনিয়া জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় অমুসলিমদের চেয়ে হাজার বছর পিছনে পড়ে আছে , তার কারনটাও এখন বোধগম্য হলো। যে ধর্ম অন্ধ বধির ও মূর্খ লোকদেরকে প্রকৃত জ্ঞানী মনে করে , সেই ধর্মের মানুষ আর যাই হোক জ্ঞান চর্চা করবে না কখনও।
আর বস্তুত:পক্ষে এই ধরনের উদ্ভট , আজগুবি , যুক্তিহীন ও অর্থহীন কথা কখনও মহাজ্ঞানী আল্লাহ বলবে না , তাই কোরান আল্লাহর বানী হতেই পারে না। আর কোরান যে আল্লাহর বানী নয় সেটা কিন্তু কোরান নিজেও আকার ইঙ্গিতে বলে দেয় যেমন -
এরা কি লক্ষ্য করে না কোরআনের প্রতি? পক্ষান্তরে এটা যদি আল্লাহ ব্যতীত অপর কারও পক্ষ থেকে হত, তবে এতো অবশ্যই বহু বৈপরিত্য দেখতে পেত।সূরা নিসা -৪: ৮২
আর কোরানে বহু রকম বৈপরীত্য বিদ্যমান। তার একটা এতক্ষন আলোচনা করা হলো। সেটা হলো - প্রকৃত জ্ঞানী তারাই যারা প্রশ্নের মাধ্যমে কোন বিষয়ের ভিতর বাইরের বিষয়াদির প্রকৃত অর্থ কার্য কারন তত্ত্বের ভিত্তিতে যৌক্তিকভাবে জানার চেষ্টা করে তারা। কিন্তু কোরান বলছে প্রকৃত জ্ঞানী তারাই যারা অন্ধ , মূর্খ ও বধির।
সুতরাং দেখা যায় কোরান নিজেই আকার ইঙ্গিতে বলছে যে সে আসলে আল্লাহর বানী নয়।
একবার দেখলাম জোকার নায়েক নামের এক তথাকথিত ইসলামী বিজ্ঞানী উক্ত ৪:৮২ আয়াত উল্লেখ করে দাবী করছে যে কেউ নাকি এ পর্যন্ত কোরানের মধ্যে কোন বৈপরিত্য দেখাতে পারে নি। হ্যা, পারে নি। কিন্তু কেন পারে নি ? কারন হলো , যারা এই বৈপরীত্য গুলো স্বীকার করবে , তারা কিন্তু সবাই মুসলমান। কোন অমুসলিম সেই বৈপরীত্য গুলো স্বীকার করলে চলবে না। আর মুসলমানদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেও তো তারা স্বীকার করবে না যে কোরানে কোন বৈপরীত্য আছে। ঠিক যেমন আল্লাহ একবার চ্যলেঞ্জ করছে - পারলে কোরানের মত কিছু বাক্য লিখে আন দেখি ? কিন্তু কথা হলো - কোরানের চাইতেও অনেক ভাল বাক্য লিখে আনলেও কোন মুসলমান কি কখনও স্বীকার করবে যে তা কোরানের চাইতেও ভাল হয়েছে ? কারন তারা তো সব অন্ধ , বধির ও মূর্খ। কোরান তাদেরকে অন্ধ ও মূর্খ থাকার জন্যেই উৎসাহিত করছে আর বলছে মূর্খরাই হলো প্রকৃত জ্ঞানী ব্যক্তি। তো একজন মূর্খ লোক কিভাবে বুঝবে যে নিরক্ষর মোহাম্মদ বা তার অর্ধ শিক্ষিত সাহাবীদের রচিত আদিম কায়দায় রচিত কোরানের বানীর গঠন বেশী সুন্দর নাকি কোন প্রতিভাবান কবির বাক্য গঠন বেশী সুন্দর? বলা বাহুল্য তারা বুঝতে পারে না , আর তাই কোরানের চ্যালেঞ্জ আজ পর্যন্ত কেউ গ্রহন করে তাকে পরাস্ত করতে পারে নি। আর এর দ্বারা এ প্রবাদ বাক্যটির প্রকৃত তাৎপর্যও বোঝা যায় তা হলো -
পাগলের সুখ নিজের মনে ।
চলবে----------------------------
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন