কেন কোরান আল্লাহর বানী নয়, পর্ব-২

ম পর্বে দেখানো হয়েছিল সর্ব শক্তিমান আল্লাহর কোন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকা সত্ত্বেও ফালতু মানুষের মত চ্যালেঞ্জ করছে। এ পর্বে দেখানো হবে আল্লাহর আরও কিছু অর্থহীন ও উদ্ভট বাগাড়ম্বর। আর দেখান হবে জগাখিচুড়িভাবে কোরানকে সংকলন করা হয়েছিল।

প্রথমেই আমরা নিচের আয়াত দেখতে পারি---------

আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক।সূরা হিজর -১৫:০৯

উক্ত আয়াত অনুযায়ী , অনেকেই খুব বাগাড়ম্বর করে বলে যে সারা দুনিয়ায় যেখানেই যে কোরান পাওয়া যাক না কেন , তার প্রতিটি দাড়ি কমা সহ সব কিছু নিখূত। আর সেটাই হলো উক্ত আয়াতের অর্থ আর এভাবেই নাকি আল্লাহ কোরানকে রক্ষা করে কোরানের অলৌকিকত্ব দেখিয়েছে। দুনিয়ায় আরও বহু পুস্তক পাওয়া যায় বড় বড় লেখক বা কবির। যেমন সেক্সপীয়ারের নাটক , সেই নাটকগুলো তো সেই প্রায় চারশ বছর ধরে হুবহু একই আছে। আসলে একটা স্টান্ডার্ড ধরে যখন সেই সব নাটক প্রকাশ হতে শুরু করে তখন থেকেই সেটা অপরিবর্তনীয় হয়ে আছে। ১৪০০ বছর আগে কুরান এই দুনিয়ায় লেখার পর ,পরবর্তীতে ইসলামি খলিফা বা বাদশার ফরমান অনুযায়ী একটা স্ট্যান্ডার্ড জারী করে সেই মত কোরান প্রকাশ হয়ে আসছে। সুতরাং তাতে কোন পরিবর্তন পরিবর্ধন না থাকার মানে এটা নয় যে তা অপরিবর্তিত আছে বা সম্পূর্ন বিশুদ্ধ। আমাদের দেখতে হবে , মুহাম্মদ যে ভাবে কুরান নাজিল করেছিলেন বর্তমানকার তথাকথিত বিশুদ্ধ কোরান হুবহু সেরকম আছে কি না। যদি থাকে তাহলেই প্রমানিত হবে যে কোরান সত্যি সত্যি বিশুদ্ধ এবং তাই তা আল্লাহ কর্তৃক প্রেরিত।

এখন আমরা দেখি বস্তুত আল্লাহ সেই কাজ আসলেই করতে সক্ষম হয়েছে কি না। যদি সক্ষম না হয় তাহলে প্রমানিত হবে যে কোরান আল্লাহর কিতাব নয়। এ প্রসংগে প্রথমেই ইবনে কাসিরের তাফসির দেখা যেতে পারে -



সূত্র : তাফসির ইবনে কাথির, পৃষ্ঠা নং- ৭৩৩, ১৫শ খন্ড, অনুবাদ: ড: মুজিবুর রহমান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ওয়েবসাইট: http://www.quraneralo.com/tafsir

উক্ত তাফসিরে দেখা যাচ্ছে উবাই ইবনে কাব বলছেন - সূরা আহযাবের আয়াত সংখ্যা হলো সূরা বাকারার আয়াত সংখ্যার সমান। কিন্তু সূরা বাকারার আয়াত সংখ্যা হলো ২৮৬ টি। অথচ সূরা আহযাবে বর্তমানে আয়াত সংখ্যা হলো মাত্র ৭৩ টি। তাহলে বাকী ২৮৬--৭৩= ২১৩ বা প্রায় ২০০ টি আয়াত সূরা আহযাব থেকে কোথায় গেল ? আল্লাহ কি সেসব সংরক্ষন করতে ব্যর্থ হয়েছে ? উক্ত তাফসিরে একটা নির্দিষ্ট আয়াতের কথাও বলা হচ্ছে যা বর্তমানে কোরানে নেই অথচ মুহাম্মদের সময়ে সেটা পড়া হতো ও সেই মোতাবেক বিচার ও শাস্তিও দেয়া হতো। সেটা হলো ব্যভিচারের জন্য পাথর ছুড়ে মারার শাস্তি। যাকে রজম বলা হয়। এই রজম সম্পর্কিত একটা আয়াত মুহাম্মদের জীবদ্দশায় ছিল কিন্তু এখন কোরানে নাই। কিন্তু মজার বিষয় এই বিধান অনুযায়ী এখনও বিভিন্ন দেশ যেমন আফগানিস্তান , সুদান , পাকিস্তান ইত্যাদিতে দোষী ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হয়। এখন দেখা যাক উক্ত উবাই ইবনে কাব কে -

আব্দুল্লা আমর বর্ণিত : আল্লাহর নবী কখনই অপমানজনক সুরে বা খারাপ ভাবে কথা বলতেন না। তিনি বলতেন - সেই আমার সবচেয়ে প্রিয় যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। তিনি আরও বললেন- চারজন মানুষের কাছ থেকে তোমরা কোরান শিক্ষা কর- আব্দুল্লা বিন মাসুদ, হুদায়ফিয়ার মুক্ত দাস সালিম, উবাই বিন কাব এবং মুয়াদ বিন জাবাল। সহি বুখারি , ভলিউম- ৫, বই -৫৭, হাদিস- ১০৪

তাফসিরের উক্ত ঘটনার সমর্থন পাওয়া যায় নিচের হাদিসে --

ইবনে আব্বাস বর্ণিত : উমর বললেন , আমার ভয় হয় বহুদিন অতিক্রান্ত হলে লোকজন বলাবলি করতে পারে - কেন আমরা কোরানে রজমের আয়াত দেখছি না ? আর তখন তারা আল্লাহর বিধান ভুলে গিয়ে বিপথগামী হয়ে যেতে পারে। দেখ, আমি নিশ্চিত করছি যে যারা ব্যভিচার করে অবৈধ যৌন সংসর্গ করবে তাদের শাস্তি হলো রজম অর্থাৎ পাথর ছুড়ে হত্যা, যদি তারা বিবাহিত হয় এবং তাদের অপরাধ সাক্ষ্য বা গর্ভধারন বা স্বীকারোক্তি দ্বারা প্রমানিত হয়। সুফিয়ান আরও যোগ করলেন , আমি স্মরন করতে পারি যে উমর বলেছিলেন -নবীর আমলে নবী নিজেই এই রজমের শাস্তি বাস্তবায়ন করেছিলেন এবং আমরাও সেটা বাস্তবায়ন করতাম। সহি বুখারি , ভলিউম- ৮, বই নং- ৮২, হাদিস - ৮১৬

সুতরাং প্রমানিত হলো পাথর ছুড়ে হত্যা করার বিধান মুহাম্মদ নাজিল করেছিলেন। আর সেই অনুযায়ী তারা সেই শাস্তির বিধান কার্যকরও করতেন। অথচ বর্তমান কোরানে সেই রজমের বিধান সম্বলিত আয়াত নেই।

এছাড়া কোন নারীর দুধ পান করে কোন পুরুষ সেই নারীর সাথে মা ছেলে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারত, যার ফলে উক্ত পুরুষটি অত:পর উক্ত নারীর সামনে যে কোন প্রয়োজনে হাজির হয়ে কথা বার্তা বলতে পারত। পর্দার কড়াকড়ি তখন থাকত না কারন তাদের মধ্যে আর বৈবাহিক সম্পর্ক হতো না। এ সম্পর্কিত আয়াতও মুহাম্মদ নাজিল করেছিলেন যা বর্তমান কোরানে নাই। যেমন -

আয়শা বর্ণিত যে পরিস্কার ভাবে দশবার দুধ পান দ্বারা বিবাহ অবৈধ করার বিধান সম্বলিত আয়াত নাজিল হয়েছিল। অত:পর পরবর্তীতে পাঁচ বার দুধ পান করার আয়াত দ্বারা পূর্ববর্তি আয়াত বাতিল হয়ে যাওয়ার আয়াত নাজিল হয়। নবীর জীবিত অবস্থায় সেই সব আয়াত ছিল যা মুসলমানেরা পাঠও করত। সহি মুসলিম, বই - ৮, হাদিস - ৩৪২১

আর কি আশ্চর্য উক্ত কোন আয়াতই বর্তমান কোরানে নেই। তার মানে আল্লাহ এখানেও কোরানের আয়াত সংরক্ষন করতে ব্যর্থ।

এছাড়াও খোদ মুহাম্মদের আমলেই যে মুসলমানরা এলোমেলোভাবে কুরান পাঠ শুরু করেছিল এবং মজার ব্যপার নবি নিজেই সেই এলোমেলো কুরানকেই সঠিক বলে রায় দিচ্ছেন , সেটা দেখা যাবে নিচের হাদিসে -

উমর বিন খাত্তাব বর্ণিত : আমি হিসাম বিন হাকিম বিন হিজাম কে সুরা ফুরকান কে এমন উচ্চারনে তেলাওয়াত করতে শুনলাম যা আমার থেকে ভিন্ন ছিল। আল্লাহর নবী আমাকে ভিন্ন ভাবে শিখিয়েছিলেন। সুতরাং আমি প্রায় তাকে মারতে উদ্যত হই। তার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করি এবং অতপর তার ঘাড় ধরে আমি তাকে টানতে টানতে নবির কাছে নিয়ে যাই এবং তার কাছে ঘটনা বর্ণনা করি। তখন নবি হিসামকে ছেড়ে দিতে বলেন ও তাকে সুরা ফুরকান তেলা্ওয়াত করতে বলেন। তার তেলাওয়াত শোনার পর তিনি বললেন- এটা এভাবেই নাজিল হয়েছিল। তখন তিনি আমাকে তেলাওয়াত করতে বলেন । যখন আমি তেলাওয়াত করলাম এবং তিনি বললেন - কোরান এভাবেও নাজিল হয়েছিল। বস্তুত কোরান সাতটা উচ্চারনে নাজিল হয়েছিল এবং তাই তোমাদের কাছে যেটা সোজা মনে হয় সেভাবেই তেলাওয়াত করতে পার। সহি বুখারি , ভলিউম- ৩ , বই - ৪১, হাদিস - ৬০১

দেখা যায় হাদিসে বলছে কোরান সাতটা উচ্চারনে নাজিল হয়েছিল। অর্থাৎ আরবের বিভিন্ন অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষায় কোরান নাজিল হয়েছিল। এর চাইতে অদ্ভুত ব্যাপার আর কি হতে পারে ? কোরান হলো একটা দলিল , যা নাকি রক্ষিত আছে লাওহে মাহফুজে। সেখানেও কি কোরান সাতটি আঞ্চলিক আরবী ভাষায় সংরক্ষিত ? তা ছাড়া একটা সার্বজনীন দলিল কিভাবে সাতটি আঞ্চলিক উচ্চারনে নাজিল হয়? দলিল লেখার ভাষা হয় সর্বদাই একটা আদর্শ লেখ্য ভাষায়। সেই যুগে আরবের লোকেরা সেই লেখ্য ভাষা ব্যবহারও করত। সেই আদর্শ ভাষা যে কোন অঞ্চলের আরবের লোক পড়লেও সেটা বোঝার কথা। যেমন বাংলাদেশে চট্টগ্রাম, নোয়াখালি বা সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় ব্যপক পার্থক্য বিদ্যমান। তাই বলে যখন তারা কোন দলিল লেখে সেটা কি তারা তাদের নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষায় লেখে ? আর যদি আদর্শ লেখ্য ভাষায় তারা সেটা লেখে তাহলে কি বিভিন্ন অঞ্চলের বাংলাভাষীরা কি সেটা বুঝতে অক্ষম হয় ? কিন্তু বিষয়টা মোটেও সত্য নয় তা বোঝা যায় নিচের হাদিসে -

ওসমান তখন জায়িদ বিন তাবিত , আব্দুল্লাহ বিন আজ জুবায়ের, সাইদ বিন আল আস এবং আব্দুর রহমান বিন হারিথ বিন হিসামকে একটা পান্ডুলিরি আদর্শ কপি করে পূনরায় লিখতে বললেন । ওসমান বললেন - যদি তোমরা জায়িদ বিন তাবিতের সাথে একমত না হও তাহলে সেটা কুরাইশ উচ্চারনে লিখবে কারন কোরান কুরাইশ উচ্চারনেই নাজিল হয়েছিল। সহি বুখারি , ভলিউম- ৬, বই - ৬১, হাদিস - ৫১০

তার অর্থ দেখা যাচ্ছে কোরান আসলে কোন উচ্চারনে নাজিল হয়েছিল সেটাই নিশ্চিত নয়। তবে ধরে নেয়া যেতে পারে যে সেটা কুরাইশ ভাষাতেই মুহাম্মদ নাজিল করেছিলেন। কারন সেটাই ছিল তার নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষা। এছাড়া আমরা দেখি কোরানের ১১৪ টা সূরার মধ্যেকার ৮৬ টা সূরাই নাজিল হয়েছিল মক্কাতে , আর অবশ্যই সেগুলো শুধুমাত্র কুরাইশ উচ্চারনেই নাজিল হয়েছিল কারন তখনও মুহাম্মদ শুধুমাত্র কুরাইশদের কাছেই তার ইসলাম প্রচার করতেন। যুক্তির খাতিরে ধরে নিলাম , এর পর মুহাম্মদের মদিনা যাওয়ার পর তার কাছে মদিনার আঞ্চলিক ভাষায় কোরান নাজিল হতে পারে, কারন মদিনার মানুষদের কথ্য আরবী ছিল ভিন্ন রকম।

কিন্ত এত কিছুর পরেও আসল মজা অন্য খানে। সেটা হলো - আগের সেই ভিন্ন উচ্চারনে হিসাম ও ওমরের কোরান তেলাওয়াত সম্পর্কিত। হিসাম ও ওমর দুজনেই কিন্তু মক্কার লোক ও তাদের মাতৃভাষা কুরাইশ আরবী। আর সূরা কাফিরুন নাজিলও হয়েছিল মক্কাতে, এটা সময়ক্রম অনুযায়ী ১৮ নং মাক্কি সূরা । তাহলে নিশ্চিতভাবেই কাফিরুন নাজিল হয়েছিল কুরাইশ আঞ্চলিক উচ্চারনে। তাহলে সেই কুরাইশ গোত্রের লোকদের কাছেই সেই সূরা কাফিরুন ভিন্ন রকম হয় কি করে ? কিন্তু কথা হলো - মুহাম্মদ যখন তাদেরকে উভয় উচ্চারনের সূরা নাজিল হয়েছিল বললেন তখন সেটা তারা মেনে নিলেন কেন ? খেয়াল করতে হবে উক্ত হাদিসে ঘটনা ঘটছে মদিনাতে। কারন সেই মদিনাতেই তারা সবাই মুক্তভাবে মসজিদে বসে নামাজ পড়তে পারত এবং নামাজ পড়ার বিধানও কিন্তু মদিনাতেই চালু হয়। তাই উক্ত ঘটনা কোনভাবেই মক্কাতে ঘটে নি। আর মদিনাতে ততদিনে মুহাম্মদ শক্তিশালী নেতার ভুমিকায়। তার কথাকে অমান্য করার সাহস আর কারও নেই। এমন কি উমরেরও নাই। উমর তার প্রায় সব কিছু মক্কাতে ত্যাগ করে মদিনায় চলে এসেছে। তার পক্ষেও তাই আর মুহাম্মদকে সন্দেহ করা বা তার বিরুদ্ধাচরন করা সম্ভব নয়।

সময় ক্রম অনুযায়ী নাজিলকৃত সূরার তালিকা এখানে : http://www.qran.org/q-chrono.htm

সুতরাং এই ঘটনা নিশ্চিত ভাবে প্রমান করে খোদ মুহাম্মদের আমলেই মানুষ যার যার মত করে কোরানের সূরা পাঠ করত। অর্থাৎ এটা এও প্রমান করে যে - ভিন্ন উচ্চারনের কোরান নিয়ে মুহাম্মদের তেমন কোন দুশ্চিন্তা ছিল না। তার আসল চিন্তা ছিল মদিনাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার কাজ নিয়ে। আর ঠিক একারনেই মুহাম্মদ নিজের জীবনে কোন আদর্শ কোরান রচনা করে যান নি। করবেনই বা কি করে , যে যেমন খুশী তার মত করে কোরানের বানী পাঠ করে , এমতাবস্থায় একটা আদর্শ কোরান রচনা করা তো সম্ভব নয় এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করা নিয়ে মুহাম্মদ এত ব্যাস্ত ছিলেন যে সেটা একটা আদর্শ কায়দায় সংকলন করারও তার সময় ছিল না। কোরান যে আসলেই বিভিন্ন যায়গাতে বিভিন্ন ভাবে তেলাওয়াত করত তার পূর্ণ বিবরন আছে নিচের পুরো হাদিসটাতে -----

Narrated Anas bin Malik:
Hudhaifa bin Al-Yaman came to Uthman at the time when the people of Sham and the people of Iraq were waging war to conquer Arminya and Adharbijan. Hudhaifa was afraid of their (the people of Sham and Iraq) differences in the recitation of the Qur'an, so he said to 'Uthman, “O chief of the Believers! Save this nation before they differ about the Book (Quran) as Jews and the Christians did before.” So 'Uthman sent a message to Hafsa saying, “Send us the manuscripts of the Qur'an so that we may compile the Qur'anic materials in perfect copies and return the manuscripts to you.” Hafsa sent it to 'Uthman. 'Uthman then ordered Zaid bin Thabit, 'Abdullah bin AzZubair, Said bin Al-As and 'AbdurRahman bin Harith bin Hisham to rewrite the manuscripts in perfect copies. 'Uthman said to the three Quraishi men, “In case you disagree with Zaid bin Thabit on any point in the Qur'an, then write it in the dialect of Quraish, the Qur'an was revealed in their tongue.” They did so, and when they had written many copies, 'Uthman returned the original manuscripts to Hafsa. 'Uthman sent to every Muslim province one copy of what they had copied, and ordered that all the other Qur'anic materials, whether written in fragmentary manuscripts or whole copies, be burnt. Said bin Thabit added, "A Verse from Surat Ahzab was missed by me when we copied the Qur'an and I used to hear Allah's Apostle reciting it. So we searched for it and found it with Khuzaima bin Thabit Al-Ansari. (That Verse was): 'Among the Believers are men who have been true in their covenant with Allah.' (33.23)” (Sahih al-Bukhari, Volume 6, Book 61, Number 510)


অত:পর ওসমানের আমলে এই ভিন্ন ভিন্ন কায়দার কোরানের বানী সর্বত্র একটা মহা সমস্যা সৃষ্টি করে , যার ফলে ওসমান একটা আদর্শ কোরান সংকলনের তাগিদ অনুভব করেই সেটা সংকলন করেন আর তা করতে গিয়ে সে যেমন ইচ্ছা খুশী বহু আয়াত এমন কি হয়ত সূরাও বাদ দিয়েছে। তা বোঝা যাচ্ছে , হাদিস ও তাফসির গ্রন্থ থেকেই এবং এসবগুলোরই উৎস বিখ্যাত সব মুসলমান পন্ডিত। কোন কাফির বা মুশরিক নয়।

এখন কি মনে হয় , কোরান কি যথাযথভাবে সংরক্ষিত ? যেহেতু কোরান মোটেও যথাযথভাবে সংরক্ষিত নয় , তার শত শত আয়াত নিখোজ, তারপরেও জগাখিচুড়িভাবে সংকলিত। তাই আল্লাহ কোরান সংরক্ষনে চুড়ান্তভাবে ব্যর্থ। কিন্তু সংজ্ঞা অনুযায়ী আল্লাহ কোন কাজেই ব্যর্থ হতে পারে না। তার অর্থ কোরান অবশ্যই আল্লাহর কাছ থেকে আসে নি।

হাদিস সূত্র : http://www.quranexplorer.com/Hadith/English/index.html

চলবে --------------------











সুরা আহযাবে কিছু আয়াত নেই, এই অভিযোগ কি আদৌ সত্যি?
আসিম বিন বাদালা ও উমর রা: থেকে বর্নিত হাদীসের উপর ভিত্তি করে ইহুদী ও নাসারা উক্ত অভিযোগ করে থাকে।
আজকে এ ব্যাপরে একটু আলোচনা করব--

আসিম বিন বাদালা, যির রা থেকে বর্ননা করেন- উবাই বিন কাব রা আমাকে বললেন সুরা আহযাবের কতটি আয়াত গননা করা হয়? উত্তরে তিনি বললেন ৭৩ টি। তখন উবাই বিন কাব রা বলেন: না না ।আমি তো দেখছি এ সুরাটি প্রায় সুরা বাকারার সমান ছিল। এ সুরার মধ্যে আমরা পাঠ করতাম-
বুড়ো,বুড়ি যদি ব্যভিচারে লিপ্ত হয় তবে তাদেরকে অবশ্যই প্রস্তর আঘাতে হত্যা করে ফেল,এটা আল্লাহর পখ্খ হতে শ্বাস্তি, আল্লাহ পরাক্রমশালী , বিঙ্গান ময়। (মুসনাদে আহমাদ : ২১২৪৫)

সুরা আহযাব থেকে কিছু আয়াত হারিয়ে গেছে তার পখ্খে যুক্তি হিসেবে আসিম বিন বাদালা ও যির রা এর বর্নিত উক্ত হাদিস তুলে ধরা হয়।

এখানে লখ্খনিয়--

যির রা: ও তার রেফারেন্সে আসিম বিন বাদালা, উবাই বিন কাব রা এর একটি কথাকে এখানে প্রকাশ করছেন। অথচ ইসলামের ইতিহাসে আসিম বিন বাদালা ও যির রা: কে দুর্বল রাবী বা দুর্বল বর্ননাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।(দেখুন classification of Musnad Ahmad by Shaykh Shu’aib Arna’ut accompained by Aadil Murshid and Sa’id al-Ham, Al-Resalah publishers Beirut, 1999 vol. 35 p.134)

আসিম বিন বাদালা রা: সম্পর্কে মুসনাদে আহমাদে বর্নিত আছে-
“The chain is Da’if (i.e. weak) – Aasim bin Bahdala – even if acceptable used to have inadvertences due to bad memory, so he alone cannot be relied upon in reports like this.”

নীচের চার্ট টি দেখলে বিষয়টি আরো পরিষ্কার হবে--


এছাড়াও বলে হয়েছে- “The narration through this chain is Da’if (i.e. weak) for it includes Aasim and he is [otherwise] acceptable but used to have inadvertences.” (p. 439)

হাফিয নুরুদ্দিন হাতেমি বলেন--
“In its chain is Aasim bin Abi al-Najud and he is Da’if (i.e. weak)” (Mawarid az-Zamaan, Hadith 1756)

একই ভাবে Imam Shahabuddin Ahmad al-Boseri (d. 840 A.H.) বলেন-
“Their chains depend upon Aasim bin Abi al-Najud and he is Da’if (i.e. weak)”


অর্থাৎ এ কথা পরিষ্কার যে আসিম বিন বাদালা একজন দুর্বল বর্ননাকারী এবং তার বর্নিত কোন হাদিসকে রেফারেন্স হিসেবে নেয়া যায় না

আবার নীচের এই হাদীসটও দেয়া হয়--

ইবনে আব্বাস বর্ণিত : উমর বললেন , আমার ভয় হয় বহুদিন অতিক্রান্ত হলে লোকজন বলাবলি করতে পারে - কেন আমরা আল্লাহর কিতাবে রজমের আয়াত দেখছি না ? আর তখন তারা আল্লাহর বিধান ভুলে গিয়ে বিপথগামী হয়ে যেতে পারে।দেখ, আমি নিশ্চিত করছি যে যারা ব্যভিচার করে অবৈধ যৌন সংসর্গ করবে তাদের শাস্তি হলো রজম অর্থাৎ পাথর ছুড়ে হত্যা, যদি তারা বিবাহিত হয় এবং তাদের অপরাধ সাক্ষ্য বা গর্ভধারন বা স্বীকারোক্তি দ্বারা প্রমানিত হয়।সুফিয়ান আরও যোগ করলেন , আমি স্মরন করতে পারি যে উমর বলেছিলেন -নবীর আমলে নবী নিজেই এই রজমের শাস্তি বাস্তবায়ন করেছিলেন এবং আমরাও সেটা বাস্তবায়ন করতাম।

প্রকিতপখ্খে এখানে পাথর ছুড়ে হত্যা বা রজমের যে কথা বলা হয়েছে তা কোরআনের কোন আ্য়াত নয় বরং তা ছিল তৎকালীন সমাজে বাইবেলের প্রচলিত একটি আইন (সুত্র: Deuteronomy 22.)

আর এ কারনেই হুযুর সা: স্বয়ং পাথর ছুড়ে হত্যা বা রজমের কোন আয়াত কোরআনে লিপিবদ্ধ করতে নিষেধ করেছেন-

-It is reported in a narration from Kathir bin Salt that: Zaid (b. Thabit) said: 'I heard the Messenger of Allah say, 'When a married man or woman commit adultery stone them both (to death)', (hearing this) Amr said,
'When this was revealed I came to Prophet and asked if I could write it, he (the Prophet) disliked it.' (Mustadrik Al-Hakim, Hadith 8184. Hakim called it Sahih. al-Dhahbi agreed with him)

এখানে স্পষ্টতই নবী সা রজমের ব্যপারে তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।
আর এসময় কিন্তু ওমর রা কিন্তু সেখানেই উপস্থিত ছিলেন , দেখুন তিনি কি বলছেন-
Zaid bin Thabit and Marwan bin Hakam were discussing as to why it is not written in the Quranic manuscript and Umar bin Khattab was present with them and listening to their discussion he said he knew it better then them and told them that he came to Messenger of Allah and said:

"'O Messenger of Allah, let the verse about stoning be written for me.' He (the Prophet) said, 'I can't do this.'" (Sunan Al-Kubra Baihiqi 8/211 & Sunan Al-Kubra Nasai Hadith 7148. Albani (in Sahiha 6/412) said Baihiqi pointed to its authenticity)
)
-It is reported in a narration from Kathir bin Salt that: Zaid (b. Thabit) said: 'I heard the Messenger of Allah say, 'When a married man or woman commit adultery stone them both (to death)', (hearing this) Amr said,
'When this was revealed I came to Prophet and asked if I could write it, he (the Prophet) disliked it.' (Mustadrik Al-Hakim, Hadith 8184. Hakim called it Sahih. al-Dhahbi agreed with him)

এখানে স্পষ্টতই নবী সা রজমের ব্যপারে তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।
আর এসময় কিন্তু ওমর রা কিন্তু সেখানেই উপস্থিত ছিলেন , দেখুন তিনি কি বলছেন-
Zaid bin Thabit and Marwan bin Hakam were discussing as to why it is not written in the Quranic manuscript and Umar bin Khattab was present with them and listening to their discussion he said he knew it better then them and told them that he came to Messenger of Allah and said:

"'O Messenger of Allah, let the verse about stoning be written for me.' He (the Prophet) said, 'I can't do this.'" (Sunan Al-Kubra Baihiqi 8/211 & Sunan Al-Kubra Nasai Hadith 7148. Albani (in Sahiha 6/412) said Baihiqi pointed to its authenticity)
)

তাছাড়া কোন সাহাবী কখনই নবী সা: কে রজমের কোন আয়াত তেলওয়াত করতে শুনেন নি।

কাজেই উপরের আলোচনা থেকে স্পস্ট যে রজম কোরআনের আয়াতের কোন অংশ নয়, বরং পুর্ববর্তী তাওরাত, বাইবেলের প্রচলিত একটি আইন। তাই কোরআনে কোন আয়াত হারিয়ে গেছে (Missing) ইহুদীদের এরকম অভিযোগ সম্পুর্ন ভিত্তিহীন

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মুহাম্মদকে কি ডাকাত দলের সর্দার বলা যাবে?

কোরান আসলে কার বানী ? পর্ব -৭

ইসলাম নারীদেরকে কুত্তা ও শয়তানের সমান বলে নারীকে দিয়েছে সুমহান মর্যাদা