কেন কোরান আল্লাহর বানী নয় , পর্ব -৫
কোরানের বানীতে বহুরকম অনৈতিক বিধিমালা ও আদেশ নির্দেশের তথ্য পাওয়া যায়। অথচ সংজ্ঞা অনুযায়ী আল্লাহ হবে পরম করুনাময় , ন্যায়পরায়ন, বিচারক, পরম জ্ঞানী, পরম প্রেমময় অর্থাৎ যাবতীয় গুণাবলীর পরম আধার। কিন্তু কোরানের আল্লাহর এ ধরনের কোন গুণ নাই।
প্রথমেই আমরা কোরানের মধ্যে চরম নিষ্ঠুর এক আল্লাহর পরিচয় পাই। কোরানে একটি বারের জন্য আল্লাহ বলে নাই যে সে তার বান্দাদেরকে ভালবাসে। অথচ আমরা তার বান্দারা আল্লাহর সন্তানের মত। আমরা খারাপ কাজ করলে অবশ্যই আমাদেরকে শাসন করবে , তাতে অন্যায় কিছু দেখা যায় না । কিন্তু আমরা ভাল কাজ করি বা না করি , নির্বিশেষে আল্লাহর বান্দা তথা সন্তান হিসাবে সে আমাদেরকে ভালবাসবে সেটাই কাম্য। তারপর আমাদের কর্মের কারনে পরকালে আমাদেরকে হয় শাস্তি দেবে না হয় পুরস্কৃত করবে। দুনিয়াতে পিতা মাতা তার সকল সন্তানকেই ভালবাসে , তা সেই সন্তানরা ভাল হোক বা খারাপ হোক। এমন কি কোন সন্তান যদি তার পিতা মাতাকে ছেড়ে চলে যায় ,পিতা মাতার কোন খোজ খবর নাও নেয় তাহলেও তারা সেই সন্তানকে ভালবাসে এবং তার মঙ্গল কামনা করে। অর্থাৎ তাদের এই ভালবাসা নি:স্বার্থ। কিন্তু আল্লাহর ভালবাসা নি:স্বার্থ নয়। মানুষ যেখানে তার সন্তানদেরকে নি:স্বার্থ ভালবাসতে পারে , কোরানের আল্লাহ সেই মানবীয় গুনেরও অধিকারী নয়। গোটা কোরানে সামান্য কয়েক যায়গায় দেখা যায় আল্লাহ মানুষকে ভালবাসার কথা বলছে , সেটাও আবার স্বার্থযুক্ত। যেমন -
বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহও তোমাদিগকে ভালবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু। সূরা আল ইমরান - ৩: ৩১
অর্থাৎ আল্লাহকে ভালবাসলে ও মোহাম্মদকে অনুসরন করলেই একমাত্র আল্লাহ মানুষকে ভালবাসবে , না হলে ভালবাসবে না। কি অদ্ভুত ব্যাপার ! অথচ পরম করুনাময় ও পরম প্রেমময় আল্লাহ তার সৃষ্টিকে নির্বিশেষে প্রথমে ভালবাসবে এটাই হবে যথার্থ । কিন্তু কোরানের কোথাও বলে নি যে আল্লাহ নির্বিশেষে তার সৃষ্টিকে প্রথমে নি:স্বার্থ ভালবাসে। অথচ এই আল্লাহই আবার দাবী করছে যে নাকি পরম প্রেমময় ! আল্লাহর যে ৯৯ টা নাম আছে তার একটা হলো আল ওয়াদুদ যার অর্থ হলো পরম প্রেমময়। কিন্তু একজন পরম প্রেমময় কিভাবে স্বার্থপর প্রেমিক হতে পারে তা আমাদের বোধগম্য নয়। এখন দেখা যাক , আল্লাহ কাকে ভালবাসে -
আর ব্যয় কর আল্লাহর পথে, তবে নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না। আর মানুষের প্রতি অনুগ্রহ কর। আল্লাহ অনুগ্রহকারীদেরকে ভালবাসেন।সূরা বাকারা - ২: ১৯৫
আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে হায়েয (ঋতু) সম্পর্কে। বলে দাও, এটা অশুচি। কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়। যখন উত্তম রূপে পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে, তখন গমন কর তাদের কাছে, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে ভালবাসেন। সূরা বাকারা - ২: ২২২
মুশরিকদের চুক্তি আল্লাহর নিকট ও তাঁর রসূলের নিকট কিরূপে বলবৎ থাকবে। তবে যাদের সাথে তোমরা চুক্তি সম্পাদন করেছ মসজিদুল-হারামের নিকট। অতএব, যে পর্যন্ত তারা তোমাদের জন্যে সরল থাকে, তোমরাও তাদের জন্য সরল থাক। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সাবধানীদের ভালবাসেন।সূরা আত তাওবা - ৯: ৭
আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন, যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধভাবে লড়াই করে, যেন তারা সীসাগালানো প্রাচীর।সূরা আছ ছফ- ৬১: ৪
তাহলে দেখা যাচ্ছে -আল্লাহ শুধুমাত্র তাদেরকেই ভালবাসে যারা অন্য মানুষকে অনুগ্রহ করে , যারা পাক পবিত্র থাকে , যারা সাবধান থাকে , আর যারা আল্লাহর পথে লড়াই করে তথা জিহাদ করে। অবশ্যই আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসবে কিন্তু যদি সে শুধুমাত্র তাদেরকেই ভালবাসে ও বাকীদের ঘৃণা করে সেটা হবে স্বার্থপর ভালবাসা। বিষয়টা এরকম না হয়ে যদি আল্লাহ দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলত -
বল ,মুহাম্মদ , আমি আমার সকল বান্দাদেরকে ভালবাসি , কিন্তু তারা আমার ভালবাসার মর্যাদা দেয় না
কিন্তু কোরানের আল্লাহ কোথাও এ ধরনের দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে সকল বান্দাকে ভালবাসার ঘোষণা দিতে না পেরে স্বার্থপরতা ও সংকীর্ণতার পরিচয় দিয়েছে এবং কোরানে আল্লাহর পরম প্রেমময় ( আল ওয়াদুদ ) নামটাকে ব্যর্থ প্রমান করে দিয়ে প্রকারান্তরে কোরান যে আল্লাহর কিতাব নয় সেটাই প্রমান করেছে।
এছাড়া দেখা যায় আল্লাহ নানারকম অনৈতিক কাজ যথা, লুট তরাজ , ডাকাতি , নারী ধর্ষন, খুন খারাবি করার জন্য নির্দেশ দেয় যা মোটেও আল্লাহকে কোনভাবেই নীতিবান , ন্যায়পরায়ন, পরম করুনাময় বলে প্রমান করে না। যেমন -
সম্মানিত মাস সম্পর্কে তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে যে, তাতে যুদ্ধ করা কেমন? বলে দাও এতে যুদ্ধ করা ভীষণ বড় পাপ। আর আল্লাহর পথে প্রতিবন্দ্বকতা সৃষ্টি করা এবং কুফরী করা, মসজিদে-হারামের পথে বাধা দেয়া এবং সেখানকার অধিবাসীদেরকে বহিস্কার করা, আল্লাহর নিকট তার চেয়েও বড় পাপ। আর ধর্মের ব্যাপারে ফেতনা সৃষ্টি করা নরহত্যা অপেক্ষাও মহা পাপ। বস্তুতঃ তারা তো সর্বদাই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে, যাতে করে তোমাদিগকে দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দিতে পারে যদি সম্ভব হয়। তোমাদের মধ্যে যারা নিজের দ্বীন থেকে ফিরে দাঁড়াবে এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের যাবতীয় আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে। আর তারাই হলো দোযখবাসী। তাতে তারা চিরকাল বাস করবে। সূরা বাকারা - ২: ২১৭
উক্ত আয়াতটি নাজিল হয়েছিল মুহাম্মদের নির্দেশে একটা ডাকাতিকে কেন্দ্র করে। মদিনাতে তার দলবলসহ হিজরত করার পর যখন সেখানে জীবন ধারন কঠিন হয়ে পড়েছিল তখন মুহাম্মদ মরিয়া হয়ে আটজন মুসলমানের একটি দলকে তাদের অজান্তেই মক্কার উপকন্ঠে নকলা নামক স্থানে বানিজ্য কাফেলা আক্রমন করে তাদের মালামাল লুটপাট করার জন্য হুকুম দেন। যাকে সোজা ভাষায় ডাকাতি করা বলা হয়। মুহাম্মদের দল সেখানে একটা বানিজ্য কাফেলার ওপর আতর্কিতে আক্রমন করে তাদের একজনকে হত্যা করে অত:পর তাদের মালামাল লুট করে নিয়ে আসে। কিন্তু ঘটনাচক্রে সেটা সেই আরব দেশের প্রচলিত প্রথা মতে নিষিদ্ধ মাসে ঘটে যায় যা নিয়ে অত:পর আরববাসীরা মোহাম্মদকে একজন নীতি ও আদর্শহীন দস্যূ তস্কর হিসাবে বদনাম করতে থাকে। আর তখনই নাজিল হয় উক্ত আয়াত। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে ইবনে কাসিরের তাফসির সমেত নিচের পোষ্টে -
অপার শান্তির ধর্ম ইসলাম ,পর্ব -৩(লুটপাট ও ডাকাতি প্রসঙ্গ)
এবার আসা যাক নারী ধর্ষন প্রসঙ্গে , যেমন -
তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়ে যায়, তারা ছাড়া নারীদের সকল সধবা স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে নিষিদ্ধ; এটা তোমাদের জন্য আল্লাহর হুকুম। এদেরকে ছাড়া তোমাদের জন্যে সব নারী হালাল করা হয়েছে, শর্ত এই যে, তোমরা তাদেরকে স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তলব করবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য-ব্যভিচারের জন্য নয়। অনন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা ভোগ করবে, তাকে তার নির্ধারিত হক দান কর। তোমাদের কোন গোনাহ হবে না যদি নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরে সম্মত হও। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিজ্ঞ, রহস্যবিদ।সূরা নিসা -৪: ২৪
উক্ত আয়াতে প্রথমত: যুদ্ধবন্দিনী ও দাসীদের সাথে যৌনকাজ করার জন্য আল্লাহ অনুমতি দিচ্ছে। আর বলা বাহুল্য কোন যুদ্ধ বন্দিনী নারী স্বেচ্ছায় বিজয়ী মুসলমানের সাথে যৌনকাজ করবে না , তাই তাকে ধর্ষন করতে হবে যা আল্লার বিধান। দ্বিতীয়ত: সাময়িক বিয়ের অনুমতি দিচ্ছে যার মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে কোন নারীকে কয় দিনের জন্য সাময়িক বিয়ে করে তাকে উপভোগ করে , অত:পর তার পাওনা পরিশোধ করে দিয়ে তাকে তালাক দেয়া যাবে। সুতরাং আল্লাহ বন্দিনী নারীকে ধর্ষন ও পতিতা বৃত্তির মত ঘৃণ্য ও অমানবিক কাজকে বৈধ ঘোষনা করছে যা কোরানের আল্লাহকে কোনমতেই একজন পরম করুনাময়, দয়ালূ ও ন্যয়পরায়ন হিসাবে প্রমান করে না এবং সেটা না করে অবশেষে কোরান যে প্রকৃতই আল্লাহর কিতাব নয় সেটাই প্রমান করে। উক্ত আয়াত যে আসলেই নারী ধর্ষন ও পতিতাবৃত্তির ব্যাপারে আল্লাহর বিধান তা হাদিস ও ইবনে কাসিরের তাফসির সহযোগে বিস্তারিত জানা যাবে নিচের পোষ্টে -
ইসলামে বন্দিনী নারী, দাসিদের সাথে যৌনকাজ ও পতিতাবৃত্তি কি বৈধ?
সুতরাং দেখা যাচ্ছে , কোরানের আল্লাহ তার বান্দাদেরকে নি:স্বার্থ ভালবাসে না , তাই সে সংকীর্নমনা ও স্বার্থপর , কোরানের আল্লাহ নিরীহ বানিজ্য কাফেলা লুটপাট বা ডাকাতি করতে বলে , তাই সে চুড়ান্ত রকমভাব অপরাধ প্রবণ ও সকল নৈতিকার বিরোধী ,কোরানের আল্লাহ বন্দিনী নারীদেরকে ধর্ষন করতে বলে , তাই সে চুড়ান্ত অনৈতিক ও নিষ্ঠুর । কিন্তু সংজ্ঞা অনুযায়ী , আল্লাহ হবে পরম করুনাময় , প্রেমময় , ন্যায়পরায়ন, নীতিবান , নি:স্বার্থ --, কিন্তু কোরানের আল্লাহর এ ধরনের কোন গুণই নেই, আর তাই কোরান সেই আল্লাহর কিতাব হওয়া একান্তভাবেই অসম্ভব।
প্রথমেই আমরা কোরানের মধ্যে চরম নিষ্ঠুর এক আল্লাহর পরিচয় পাই। কোরানে একটি বারের জন্য আল্লাহ বলে নাই যে সে তার বান্দাদেরকে ভালবাসে। অথচ আমরা তার বান্দারা আল্লাহর সন্তানের মত। আমরা খারাপ কাজ করলে অবশ্যই আমাদেরকে শাসন করবে , তাতে অন্যায় কিছু দেখা যায় না । কিন্তু আমরা ভাল কাজ করি বা না করি , নির্বিশেষে আল্লাহর বান্দা তথা সন্তান হিসাবে সে আমাদেরকে ভালবাসবে সেটাই কাম্য। তারপর আমাদের কর্মের কারনে পরকালে আমাদেরকে হয় শাস্তি দেবে না হয় পুরস্কৃত করবে। দুনিয়াতে পিতা মাতা তার সকল সন্তানকেই ভালবাসে , তা সেই সন্তানরা ভাল হোক বা খারাপ হোক। এমন কি কোন সন্তান যদি তার পিতা মাতাকে ছেড়ে চলে যায় ,পিতা মাতার কোন খোজ খবর নাও নেয় তাহলেও তারা সেই সন্তানকে ভালবাসে এবং তার মঙ্গল কামনা করে। অর্থাৎ তাদের এই ভালবাসা নি:স্বার্থ। কিন্তু আল্লাহর ভালবাসা নি:স্বার্থ নয়। মানুষ যেখানে তার সন্তানদেরকে নি:স্বার্থ ভালবাসতে পারে , কোরানের আল্লাহ সেই মানবীয় গুনেরও অধিকারী নয়। গোটা কোরানে সামান্য কয়েক যায়গায় দেখা যায় আল্লাহ মানুষকে ভালবাসার কথা বলছে , সেটাও আবার স্বার্থযুক্ত। যেমন -
বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহও তোমাদিগকে ভালবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু। সূরা আল ইমরান - ৩: ৩১
অর্থাৎ আল্লাহকে ভালবাসলে ও মোহাম্মদকে অনুসরন করলেই একমাত্র আল্লাহ মানুষকে ভালবাসবে , না হলে ভালবাসবে না। কি অদ্ভুত ব্যাপার ! অথচ পরম করুনাময় ও পরম প্রেমময় আল্লাহ তার সৃষ্টিকে নির্বিশেষে প্রথমে ভালবাসবে এটাই হবে যথার্থ । কিন্তু কোরানের কোথাও বলে নি যে আল্লাহ নির্বিশেষে তার সৃষ্টিকে প্রথমে নি:স্বার্থ ভালবাসে। অথচ এই আল্লাহই আবার দাবী করছে যে নাকি পরম প্রেমময় ! আল্লাহর যে ৯৯ টা নাম আছে তার একটা হলো আল ওয়াদুদ যার অর্থ হলো পরম প্রেমময়। কিন্তু একজন পরম প্রেমময় কিভাবে স্বার্থপর প্রেমিক হতে পারে তা আমাদের বোধগম্য নয়। এখন দেখা যাক , আল্লাহ কাকে ভালবাসে -
আর ব্যয় কর আল্লাহর পথে, তবে নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না। আর মানুষের প্রতি অনুগ্রহ কর। আল্লাহ অনুগ্রহকারীদেরকে ভালবাসেন।সূরা বাকারা - ২: ১৯৫
আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে হায়েয (ঋতু) সম্পর্কে। বলে দাও, এটা অশুচি। কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়। যখন উত্তম রূপে পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে, তখন গমন কর তাদের কাছে, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে ভালবাসেন। সূরা বাকারা - ২: ২২২
মুশরিকদের চুক্তি আল্লাহর নিকট ও তাঁর রসূলের নিকট কিরূপে বলবৎ থাকবে। তবে যাদের সাথে তোমরা চুক্তি সম্পাদন করেছ মসজিদুল-হারামের নিকট। অতএব, যে পর্যন্ত তারা তোমাদের জন্যে সরল থাকে, তোমরাও তাদের জন্য সরল থাক। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সাবধানীদের ভালবাসেন।সূরা আত তাওবা - ৯: ৭
আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন, যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধভাবে লড়াই করে, যেন তারা সীসাগালানো প্রাচীর।সূরা আছ ছফ- ৬১: ৪
তাহলে দেখা যাচ্ছে -আল্লাহ শুধুমাত্র তাদেরকেই ভালবাসে যারা অন্য মানুষকে অনুগ্রহ করে , যারা পাক পবিত্র থাকে , যারা সাবধান থাকে , আর যারা আল্লাহর পথে লড়াই করে তথা জিহাদ করে। অবশ্যই আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসবে কিন্তু যদি সে শুধুমাত্র তাদেরকেই ভালবাসে ও বাকীদের ঘৃণা করে সেটা হবে স্বার্থপর ভালবাসা। বিষয়টা এরকম না হয়ে যদি আল্লাহ দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলত -
বল ,মুহাম্মদ , আমি আমার সকল বান্দাদেরকে ভালবাসি , কিন্তু তারা আমার ভালবাসার মর্যাদা দেয় না
কিন্তু কোরানের আল্লাহ কোথাও এ ধরনের দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে সকল বান্দাকে ভালবাসার ঘোষণা দিতে না পেরে স্বার্থপরতা ও সংকীর্ণতার পরিচয় দিয়েছে এবং কোরানে আল্লাহর পরম প্রেমময় ( আল ওয়াদুদ ) নামটাকে ব্যর্থ প্রমান করে দিয়ে প্রকারান্তরে কোরান যে আল্লাহর কিতাব নয় সেটাই প্রমান করেছে।
এছাড়া দেখা যায় আল্লাহ নানারকম অনৈতিক কাজ যথা, লুট তরাজ , ডাকাতি , নারী ধর্ষন, খুন খারাবি করার জন্য নির্দেশ দেয় যা মোটেও আল্লাহকে কোনভাবেই নীতিবান , ন্যায়পরায়ন, পরম করুনাময় বলে প্রমান করে না। যেমন -
সম্মানিত মাস সম্পর্কে তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে যে, তাতে যুদ্ধ করা কেমন? বলে দাও এতে যুদ্ধ করা ভীষণ বড় পাপ। আর আল্লাহর পথে প্রতিবন্দ্বকতা সৃষ্টি করা এবং কুফরী করা, মসজিদে-হারামের পথে বাধা দেয়া এবং সেখানকার অধিবাসীদেরকে বহিস্কার করা, আল্লাহর নিকট তার চেয়েও বড় পাপ। আর ধর্মের ব্যাপারে ফেতনা সৃষ্টি করা নরহত্যা অপেক্ষাও মহা পাপ। বস্তুতঃ তারা তো সর্বদাই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে, যাতে করে তোমাদিগকে দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দিতে পারে যদি সম্ভব হয়। তোমাদের মধ্যে যারা নিজের দ্বীন থেকে ফিরে দাঁড়াবে এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের যাবতীয় আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে। আর তারাই হলো দোযখবাসী। তাতে তারা চিরকাল বাস করবে। সূরা বাকারা - ২: ২১৭
উক্ত আয়াতটি নাজিল হয়েছিল মুহাম্মদের নির্দেশে একটা ডাকাতিকে কেন্দ্র করে। মদিনাতে তার দলবলসহ হিজরত করার পর যখন সেখানে জীবন ধারন কঠিন হয়ে পড়েছিল তখন মুহাম্মদ মরিয়া হয়ে আটজন মুসলমানের একটি দলকে তাদের অজান্তেই মক্কার উপকন্ঠে নকলা নামক স্থানে বানিজ্য কাফেলা আক্রমন করে তাদের মালামাল লুটপাট করার জন্য হুকুম দেন। যাকে সোজা ভাষায় ডাকাতি করা বলা হয়। মুহাম্মদের দল সেখানে একটা বানিজ্য কাফেলার ওপর আতর্কিতে আক্রমন করে তাদের একজনকে হত্যা করে অত:পর তাদের মালামাল লুট করে নিয়ে আসে। কিন্তু ঘটনাচক্রে সেটা সেই আরব দেশের প্রচলিত প্রথা মতে নিষিদ্ধ মাসে ঘটে যায় যা নিয়ে অত:পর আরববাসীরা মোহাম্মদকে একজন নীতি ও আদর্শহীন দস্যূ তস্কর হিসাবে বদনাম করতে থাকে। আর তখনই নাজিল হয় উক্ত আয়াত। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে ইবনে কাসিরের তাফসির সমেত নিচের পোষ্টে -
অপার শান্তির ধর্ম ইসলাম ,পর্ব -৩(লুটপাট ও ডাকাতি প্রসঙ্গ)
এবার আসা যাক নারী ধর্ষন প্রসঙ্গে , যেমন -
তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়ে যায়, তারা ছাড়া নারীদের সকল সধবা স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে নিষিদ্ধ; এটা তোমাদের জন্য আল্লাহর হুকুম। এদেরকে ছাড়া তোমাদের জন্যে সব নারী হালাল করা হয়েছে, শর্ত এই যে, তোমরা তাদেরকে স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তলব করবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য-ব্যভিচারের জন্য নয়। অনন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা ভোগ করবে, তাকে তার নির্ধারিত হক দান কর। তোমাদের কোন গোনাহ হবে না যদি নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরে সম্মত হও। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিজ্ঞ, রহস্যবিদ।সূরা নিসা -৪: ২৪
উক্ত আয়াতে প্রথমত: যুদ্ধবন্দিনী ও দাসীদের সাথে যৌনকাজ করার জন্য আল্লাহ অনুমতি দিচ্ছে। আর বলা বাহুল্য কোন যুদ্ধ বন্দিনী নারী স্বেচ্ছায় বিজয়ী মুসলমানের সাথে যৌনকাজ করবে না , তাই তাকে ধর্ষন করতে হবে যা আল্লার বিধান। দ্বিতীয়ত: সাময়িক বিয়ের অনুমতি দিচ্ছে যার মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে কোন নারীকে কয় দিনের জন্য সাময়িক বিয়ে করে তাকে উপভোগ করে , অত:পর তার পাওনা পরিশোধ করে দিয়ে তাকে তালাক দেয়া যাবে। সুতরাং আল্লাহ বন্দিনী নারীকে ধর্ষন ও পতিতা বৃত্তির মত ঘৃণ্য ও অমানবিক কাজকে বৈধ ঘোষনা করছে যা কোরানের আল্লাহকে কোনমতেই একজন পরম করুনাময়, দয়ালূ ও ন্যয়পরায়ন হিসাবে প্রমান করে না এবং সেটা না করে অবশেষে কোরান যে প্রকৃতই আল্লাহর কিতাব নয় সেটাই প্রমান করে। উক্ত আয়াত যে আসলেই নারী ধর্ষন ও পতিতাবৃত্তির ব্যাপারে আল্লাহর বিধান তা হাদিস ও ইবনে কাসিরের তাফসির সহযোগে বিস্তারিত জানা যাবে নিচের পোষ্টে -
ইসলামে বন্দিনী নারী, দাসিদের সাথে যৌনকাজ ও পতিতাবৃত্তি কি বৈধ?
সুতরাং দেখা যাচ্ছে , কোরানের আল্লাহ তার বান্দাদেরকে নি:স্বার্থ ভালবাসে না , তাই সে সংকীর্নমনা ও স্বার্থপর , কোরানের আল্লাহ নিরীহ বানিজ্য কাফেলা লুটপাট বা ডাকাতি করতে বলে , তাই সে চুড়ান্ত রকমভাব অপরাধ প্রবণ ও সকল নৈতিকার বিরোধী ,কোরানের আল্লাহ বন্দিনী নারীদেরকে ধর্ষন করতে বলে , তাই সে চুড়ান্ত অনৈতিক ও নিষ্ঠুর । কিন্তু সংজ্ঞা অনুযায়ী , আল্লাহ হবে পরম করুনাময় , প্রেমময় , ন্যায়পরায়ন, নীতিবান , নি:স্বার্থ --, কিন্তু কোরানের আল্লাহর এ ধরনের কোন গুণই নেই, আর তাই কোরান সেই আল্লাহর কিতাব হওয়া একান্তভাবেই অসম্ভব।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন