কেন কোরান আল্লাহর বানী নয়, পর্ব - ৩
বলা হয় কোরান একটা সম্পূর্ন কিতাব । আরও দাবী করা হয় কোরানে সকলকিছুর জ্ঞান বিদ্যামান। এই হিসাবে কোরানের বাইরে কোন জ্ঞান অর্জনের দরকার নেই। এখন প্রশ্ন হলো কোরান কি আসলেই একটা সর্ব জ্ঞানসম্পন্ন সম্পূর্ন কিতাব ?
প্রথমেই আমরা নিচের আয়াতটা দেখি ----------
আর যত প্রকার প্রাণী পৃথিবীতে বিচরণশীল রয়েছে এবং যত প্রকার পাখী দু’ ডানাযোগে উড়ে বেড়ায় তারা সবাই তোমাদের মতই একেকটি শ্রেণী। আমি কোন কিছু লিখতে ছাড়িনি। অতঃপর সবাই স্বীয় প্রতিপালকের কাছে সমবেত হবে।সূরা -আল আন আম-৬: ৩৮
উক্ত আয়াতে বলছে - আল্লাহ কোন কিছু লিখতে ছাড়ে নি অর্থাৎ দুনিয়ার সব জ্ঞানই কোরানে লেখা। বর্তমানে দুনিয়াতে জ্ঞান অর্জনের শাখা প্রশাখার কোন সীমা পরিসীমা নেই। এর সব জ্ঞানই কি কোরানে আছে? খেয়াল করুন আয়াতটাকে দৃশ্যমান ঘটনার কথাই কিন্তু বলা হচ্ছে, যেমন- প্রানীরা পৃথিবীতে বিচরনশীল, পাখী দুই পাখায় ভর করে উড়ে বেড়ায়, আর এসব প্রানীরা ভিন্ন ভিন্ন শ্রেনীর। এই কথাগুলো কি মুহাম্মদের কোরান প্রবর্তনের আগে মানুষ জানত না ? কোরান আসার পরই কি এসব মানুষ জানল ? এই বানীগুলোতে কি এমন বলা হয়েছে যা আগে মানুষ জানত না? এমন কি সেই সময়ে অসভ্য আরবরাও কি এসমস্ত জানত না ? সেই হাজার হাজার বছর আগে যখন মানুষ সভ্য হয় তখন থেকেই এই বিষয়গুলো মানুষ জানত তাদের অভিজ্ঞতার দ্বারা। নিত্য দিনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কথাই এখানে বলা হয়েছে। অথচ কিছু আল্লাহর বান্দা আছে যারা কিন্তু এই কথাগুলোর মধ্যে পুরো জীববিজ্ঞান খুজে পায়।
তবে কি আমি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন বিচারক অনুসন্ধান করব, অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি বিস্তারিত গ্রন্থ অবতীর্ন করেছেন? আমি যাদেরকে গ্রন্থ প্রদান করেছি, তারা নিশ্চিত জানে যে, এটি আপনার প্রতি পালকের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবর্তীর্ন হয়েছে। অতএব, আপনি সংশয়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।সূরা আল আন আম - ৬: ১১৪
বোঝা গেল কোরান এমন একটা কিতাব যার মধ্যে সব কিছুই বিস্তারিত আকারে লিপিবদ্ধ।
সেদিন প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে আমি একজন বর্ণনাকারী দাঁড় করাব তাদের বিপক্ষে তাদের মধ্য থেকেই এবং তাদের বিষয়ে আপনাকে সাক্ষী স্বরূপ উপস্থাপন করব। আমি আপনার প্রতি গ্রন্থ নাযিল করেছি যেটি এমন যে তা প্রত্যেক বস্তুর সুস্পষ্ট বর্ণনা, হেদায়েত, রহমত এবং মুসলমানদের জন্যে সুসংবাদ। সূরা - নাহল-১৬: ৮৯
কোরান আবারও দাবী করছে যে সে প্রত্যেক বস্তুর সুস্পষ্ট বর্ননা দিয়েছে।কোন কিছুই অস্পষ্ট নেই। কিন্তু আসলেই কি তাই ? যুক্তির খাতিরে ধরে নিতে পারি যে কোরান কোন সমাজ বিজ্ঞান বা বিজ্ঞানের গ্রন্থ নয় আর তাই তার মধ্যে এসব বিষয়ে তেমন কিছু থাকবে না। সুতরাং আমরা শুধুমাত্র ইসলাম সম্পর্কিত বিষয় নিয়েই আলোচনা করতে পারি।
অনেক আল্লাহর বান্দা দাবী করে কোরান ব্যখ্যার জন্য কোরানই যথেষ্ট এবং অন্য কোন কিতাবের দরকার নেই। তাই প্রথমেই আমরা কতকগুলো ইসলামের বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারি। কোরানে বার বার নামাজের কথা , যাকাত আদায়ের কথা, হজ্জের কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে পশু কোরবানীর কথা।
কোরানে কোথায় সু স্পষ্টভাবে পাঁচবার নামাজের কথা বলা হয়েছে ? নামাজ কিভাবে পড়বে অর্থাৎ অঙ্গ সঞ্চালন কিভাবে হবে সেটা বলা হয়েছে ? কয় রাকাত নামাজ কোন ওয়াক্তে পড়তে হবে এটা কোথায় কোরানে বলা হয়েছে? কিভাবে ওজু করবে তা কোথায় বলা আছে ? যাকাত দেয়ার কথা বলা হয়েছে কিন্তু সেটার অনুপাতের কথা কোথায় বলা হয়েছে অর্থাৎ মানুষ যে আড়াই শতাংশ হারে যাকাত দেয় সেটা কোথায় কোরানে বলা আছে ? তারপর কিভাবে হজ্জ করবে , হজ্জের রীতি নীতি কায়দা কানুনের কথা কোরানে কোথায় বলা আছে ? পশু যে কোরবানী দেবে সেই পশু কিরকম হবে , কি কি গুনাবলী তার থাকবে সেই বিষয়গুলো কোথায় কোরানে বলা আছে ? একটা বড় পশু যেমন গরু বা উট যে সাতজনে ভাগ করে কোরবানী দিতে পারবে সেটা কোথায় কোরানে বলা আছে ? বর্তমানে যে শরিয়া বিধানের কথা বলা হয় যা চালু করলে নাকি এক একটা মুসলমান দেশ বেহেস্তে পরিনত হবে , সেই শরিয়া আইনের কয়টা কোরানে আছে ? তার অধিকাংশই তো হাদিস থেকে নেয়া। তাহলে কোরান কিভাবে একটা সম্পূর্ন কিতাব ?
তাহলে দেখা যাচ্ছে কোরান পড়ে একটা মানুষের পক্ষে ইসলামের কোন বিধানই ঠিকমতো পালন করা সম্ভব নয়। তাহলে কোরান কিভাবে একটা সম্পূর্ন কিতাব ? অথচ সেই কোরান খুব বড়াই করে দাবী করছে তার মধ্যে সকল কিছুই সবিস্তারে ও পরিস্কারভাবে বর্ণনা করা হয়েছে । এ্ই দাবীর ভিত্তিটা কি ?
অনেকে আদিখ্যেতা করে বলে কোরান সম্পূর্ন পড়লেই তবে বোঝা যাবে তার ভিতর সব কিছুই সবিস্তারে বর্ণিত। কোরান তো গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত বহুবার পড়লাম আমার উপরের প্রশ্নের উত্তর তো কোথাও নাই।
এছাড়া দেখা যাচ্ছে কোরানের বানীর বিভিন্ন অর্থ বিভিন্ন আলেমরা বিভিন্ন ভাবে করছে। দুনিয়ায় দুইটা আলেম কখনই কোরানের বানীর অর্থ করতে গিয়ে একমত হয় না। কোরানের বানী যদি বিস্তারিত ও পরিস্কার হতো , তাহলে এরকমটা হবে কেন ? কেন আলেমরা বিভিন্ন অর্থ করে ? এমন তো নয় যে , তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভিন্ন অর্থ করে। আসলে কোরান পড়তে গিয়ে যেমনটা তারা বোঝে তেমনই অর্থ করে। অথচ আয়াতের অর্থ পরিস্কার ও বিস্তারিত বর্ণিত থাকলে তো সেটা সম্ভব হতো না। এমতাবস্থায় কোরানের সঠিক অর্থ জানার কি উপায়? আর সঠিক অর্থ জেনে প্রকৃত মুসলমান হওয়ারই বা কি উপায় ? আলেমরা বিভিন্ন অর্থ করে বলেই দুনিয়াতে ইসলামের মধ্যে বিভাগ ও উপবিভাগের কোন সীমা পরিসীমা নেই। আর তারা এই মতদ্বৈততার কারনে পরস্পর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধেও লিপ্ত হয় বা হয়েছে সেই মুহাম্মদের আমল থেকেই। বর্তমানে তো সেটা মহামারীর রূপ নিয়েছে। শিয়ারা সুন্নিদেরকে হত্যা করে , সুন্নিরা শিয়াদেরকে হত্যা করে। আবার জে এম বি , তালেবান, আল কায়েদা , হরকাতুল জিহাদ তারা সাধারন মুসলমানদেরকে হত্যা করে। কোরান যদি অর্থ ও বর্ণনায় সম্পূর্ন হতো , তাহলে মানুষের মধ্যে এত বিভেদ তৈরী হতো না।
মজার বিষয় হলো - কোরান নিজেই কিন্তু আবার বলছে তার অর্থ বিভিন্ন অর্থাৎ বিভিন্নভাবে ব্যখ্যা করা যায়। যেমন -
এমনি ভাবে আমি আয়াতসমূ বিভিন্নভাবে ব্যখ্যা করি যাতে তারা না বলে যে, আপনি তো পড়ে নিয়েছেন এবং যাতে আমি একে সুধীবৃন্দের জন্যে খুব পরিব্যক্ত করে দেই। সূরা আল আন আম - ৬ : ১০৫
তাহলে দেখা যাচ্ছে এবার স্বয়ং আল্লাহই নিজের সাথে স্ববিরোধে লিপ্ত হচ্ছে। একবার বলছে আয়াতগুলোর অর্থ পরিস্কার, সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত , পরে এসে বলছে আয়াতগুলো সে বিভিন্নভাবে ব্যখ্যা করেছে। বিভিন্নভাবে ব্যখ্যার অর্থ বিভিন্ন অর্থ হওয়া। তাহলে স্বয়ং আল্লাহই তো দেখা যায় , মুসলমানদেরকে প্রতারিত করার জন্য একটা কঠিন ফাঁদ পেতেছে। অর্থাৎ আল্লাহ নিজেই এমন কায়দা করে রেখে গেছে যাতে করে মুসলমানরা অত:পর কোরানের আয়াতসমূহের বিভিন্ন রকম ব্যখ্যা করে নিজেদের মধ্যে দলাদলি ও মারামারি করে সমাজটাকে মারাত্মক বিশৃংখল ও অস্থির করে তোলে। বাস্তবেও আমরা তাই দেখি। দুনিয়ার সকল মুসলমান দেশেই কিন্তু এভাবেই মুসলমানরা দলাদলি করে নিজেরাই নিজেদেরকে হত্যা খুন লুটপাট রাহাজানি করছে।
তাহলে প্রশ্ন হলো - এ কোন ধরনের আল্লাহ যে চায় তার বান্দারা নিজেরা বিভিন্ন দল উপদলে বিভক্ত হয়ে মারামারি কাটাকাটি করুক এবং একটা ভয়াবহ বিশৃংখল ও অস্থির সমাজ উপহার দিক ?
সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোন পরম করুনাময়, দয়ালূ ও ন্যয়পরায়ন সৃষ্টিকর্তা এ ধরনের ষড়যন্ত্র করে মানুষকে মারামারি কাটাকাটি করে খুনাখুনি করার ব্যবস্থা করতে পারে না । আর তাই কোরান কোনমতেই আল্লাহর বানী হতে পারে না।
প্রথমেই আমরা নিচের আয়াতটা দেখি ----------
আর যত প্রকার প্রাণী পৃথিবীতে বিচরণশীল রয়েছে এবং যত প্রকার পাখী দু’ ডানাযোগে উড়ে বেড়ায় তারা সবাই তোমাদের মতই একেকটি শ্রেণী। আমি কোন কিছু লিখতে ছাড়িনি। অতঃপর সবাই স্বীয় প্রতিপালকের কাছে সমবেত হবে।সূরা -আল আন আম-৬: ৩৮
উক্ত আয়াতে বলছে - আল্লাহ কোন কিছু লিখতে ছাড়ে নি অর্থাৎ দুনিয়ার সব জ্ঞানই কোরানে লেখা। বর্তমানে দুনিয়াতে জ্ঞান অর্জনের শাখা প্রশাখার কোন সীমা পরিসীমা নেই। এর সব জ্ঞানই কি কোরানে আছে? খেয়াল করুন আয়াতটাকে দৃশ্যমান ঘটনার কথাই কিন্তু বলা হচ্ছে, যেমন- প্রানীরা পৃথিবীতে বিচরনশীল, পাখী দুই পাখায় ভর করে উড়ে বেড়ায়, আর এসব প্রানীরা ভিন্ন ভিন্ন শ্রেনীর। এই কথাগুলো কি মুহাম্মদের কোরান প্রবর্তনের আগে মানুষ জানত না ? কোরান আসার পরই কি এসব মানুষ জানল ? এই বানীগুলোতে কি এমন বলা হয়েছে যা আগে মানুষ জানত না? এমন কি সেই সময়ে অসভ্য আরবরাও কি এসমস্ত জানত না ? সেই হাজার হাজার বছর আগে যখন মানুষ সভ্য হয় তখন থেকেই এই বিষয়গুলো মানুষ জানত তাদের অভিজ্ঞতার দ্বারা। নিত্য দিনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কথাই এখানে বলা হয়েছে। অথচ কিছু আল্লাহর বান্দা আছে যারা কিন্তু এই কথাগুলোর মধ্যে পুরো জীববিজ্ঞান খুজে পায়।
তবে কি আমি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন বিচারক অনুসন্ধান করব, অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি বিস্তারিত গ্রন্থ অবতীর্ন করেছেন? আমি যাদেরকে গ্রন্থ প্রদান করেছি, তারা নিশ্চিত জানে যে, এটি আপনার প্রতি পালকের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবর্তীর্ন হয়েছে। অতএব, আপনি সংশয়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।সূরা আল আন আম - ৬: ১১৪
বোঝা গেল কোরান এমন একটা কিতাব যার মধ্যে সব কিছুই বিস্তারিত আকারে লিপিবদ্ধ।
সেদিন প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে আমি একজন বর্ণনাকারী দাঁড় করাব তাদের বিপক্ষে তাদের মধ্য থেকেই এবং তাদের বিষয়ে আপনাকে সাক্ষী স্বরূপ উপস্থাপন করব। আমি আপনার প্রতি গ্রন্থ নাযিল করেছি যেটি এমন যে তা প্রত্যেক বস্তুর সুস্পষ্ট বর্ণনা, হেদায়েত, রহমত এবং মুসলমানদের জন্যে সুসংবাদ। সূরা - নাহল-১৬: ৮৯
কোরান আবারও দাবী করছে যে সে প্রত্যেক বস্তুর সুস্পষ্ট বর্ননা দিয়েছে।কোন কিছুই অস্পষ্ট নেই। কিন্তু আসলেই কি তাই ? যুক্তির খাতিরে ধরে নিতে পারি যে কোরান কোন সমাজ বিজ্ঞান বা বিজ্ঞানের গ্রন্থ নয় আর তাই তার মধ্যে এসব বিষয়ে তেমন কিছু থাকবে না। সুতরাং আমরা শুধুমাত্র ইসলাম সম্পর্কিত বিষয় নিয়েই আলোচনা করতে পারি।
অনেক আল্লাহর বান্দা দাবী করে কোরান ব্যখ্যার জন্য কোরানই যথেষ্ট এবং অন্য কোন কিতাবের দরকার নেই। তাই প্রথমেই আমরা কতকগুলো ইসলামের বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারি। কোরানে বার বার নামাজের কথা , যাকাত আদায়ের কথা, হজ্জের কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে পশু কোরবানীর কথা।
কোরানে কোথায় সু স্পষ্টভাবে পাঁচবার নামাজের কথা বলা হয়েছে ? নামাজ কিভাবে পড়বে অর্থাৎ অঙ্গ সঞ্চালন কিভাবে হবে সেটা বলা হয়েছে ? কয় রাকাত নামাজ কোন ওয়াক্তে পড়তে হবে এটা কোথায় কোরানে বলা হয়েছে? কিভাবে ওজু করবে তা কোথায় বলা আছে ? যাকাত দেয়ার কথা বলা হয়েছে কিন্তু সেটার অনুপাতের কথা কোথায় বলা হয়েছে অর্থাৎ মানুষ যে আড়াই শতাংশ হারে যাকাত দেয় সেটা কোথায় কোরানে বলা আছে ? তারপর কিভাবে হজ্জ করবে , হজ্জের রীতি নীতি কায়দা কানুনের কথা কোরানে কোথায় বলা আছে ? পশু যে কোরবানী দেবে সেই পশু কিরকম হবে , কি কি গুনাবলী তার থাকবে সেই বিষয়গুলো কোথায় কোরানে বলা আছে ? একটা বড় পশু যেমন গরু বা উট যে সাতজনে ভাগ করে কোরবানী দিতে পারবে সেটা কোথায় কোরানে বলা আছে ? বর্তমানে যে শরিয়া বিধানের কথা বলা হয় যা চালু করলে নাকি এক একটা মুসলমান দেশ বেহেস্তে পরিনত হবে , সেই শরিয়া আইনের কয়টা কোরানে আছে ? তার অধিকাংশই তো হাদিস থেকে নেয়া। তাহলে কোরান কিভাবে একটা সম্পূর্ন কিতাব ?
তাহলে দেখা যাচ্ছে কোরান পড়ে একটা মানুষের পক্ষে ইসলামের কোন বিধানই ঠিকমতো পালন করা সম্ভব নয়। তাহলে কোরান কিভাবে একটা সম্পূর্ন কিতাব ? অথচ সেই কোরান খুব বড়াই করে দাবী করছে তার মধ্যে সকল কিছুই সবিস্তারে ও পরিস্কারভাবে বর্ণনা করা হয়েছে । এ্ই দাবীর ভিত্তিটা কি ?
অনেকে আদিখ্যেতা করে বলে কোরান সম্পূর্ন পড়লেই তবে বোঝা যাবে তার ভিতর সব কিছুই সবিস্তারে বর্ণিত। কোরান তো গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত বহুবার পড়লাম আমার উপরের প্রশ্নের উত্তর তো কোথাও নাই।
এছাড়া দেখা যাচ্ছে কোরানের বানীর বিভিন্ন অর্থ বিভিন্ন আলেমরা বিভিন্ন ভাবে করছে। দুনিয়ায় দুইটা আলেম কখনই কোরানের বানীর অর্থ করতে গিয়ে একমত হয় না। কোরানের বানী যদি বিস্তারিত ও পরিস্কার হতো , তাহলে এরকমটা হবে কেন ? কেন আলেমরা বিভিন্ন অর্থ করে ? এমন তো নয় যে , তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভিন্ন অর্থ করে। আসলে কোরান পড়তে গিয়ে যেমনটা তারা বোঝে তেমনই অর্থ করে। অথচ আয়াতের অর্থ পরিস্কার ও বিস্তারিত বর্ণিত থাকলে তো সেটা সম্ভব হতো না। এমতাবস্থায় কোরানের সঠিক অর্থ জানার কি উপায়? আর সঠিক অর্থ জেনে প্রকৃত মুসলমান হওয়ারই বা কি উপায় ? আলেমরা বিভিন্ন অর্থ করে বলেই দুনিয়াতে ইসলামের মধ্যে বিভাগ ও উপবিভাগের কোন সীমা পরিসীমা নেই। আর তারা এই মতদ্বৈততার কারনে পরস্পর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধেও লিপ্ত হয় বা হয়েছে সেই মুহাম্মদের আমল থেকেই। বর্তমানে তো সেটা মহামারীর রূপ নিয়েছে। শিয়ারা সুন্নিদেরকে হত্যা করে , সুন্নিরা শিয়াদেরকে হত্যা করে। আবার জে এম বি , তালেবান, আল কায়েদা , হরকাতুল জিহাদ তারা সাধারন মুসলমানদেরকে হত্যা করে। কোরান যদি অর্থ ও বর্ণনায় সম্পূর্ন হতো , তাহলে মানুষের মধ্যে এত বিভেদ তৈরী হতো না।
মজার বিষয় হলো - কোরান নিজেই কিন্তু আবার বলছে তার অর্থ বিভিন্ন অর্থাৎ বিভিন্নভাবে ব্যখ্যা করা যায়। যেমন -
এমনি ভাবে আমি আয়াতসমূ বিভিন্নভাবে ব্যখ্যা করি যাতে তারা না বলে যে, আপনি তো পড়ে নিয়েছেন এবং যাতে আমি একে সুধীবৃন্দের জন্যে খুব পরিব্যক্ত করে দেই। সূরা আল আন আম - ৬ : ১০৫
তাহলে দেখা যাচ্ছে এবার স্বয়ং আল্লাহই নিজের সাথে স্ববিরোধে লিপ্ত হচ্ছে। একবার বলছে আয়াতগুলোর অর্থ পরিস্কার, সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত , পরে এসে বলছে আয়াতগুলো সে বিভিন্নভাবে ব্যখ্যা করেছে। বিভিন্নভাবে ব্যখ্যার অর্থ বিভিন্ন অর্থ হওয়া। তাহলে স্বয়ং আল্লাহই তো দেখা যায় , মুসলমানদেরকে প্রতারিত করার জন্য একটা কঠিন ফাঁদ পেতেছে। অর্থাৎ আল্লাহ নিজেই এমন কায়দা করে রেখে গেছে যাতে করে মুসলমানরা অত:পর কোরানের আয়াতসমূহের বিভিন্ন রকম ব্যখ্যা করে নিজেদের মধ্যে দলাদলি ও মারামারি করে সমাজটাকে মারাত্মক বিশৃংখল ও অস্থির করে তোলে। বাস্তবেও আমরা তাই দেখি। দুনিয়ার সকল মুসলমান দেশেই কিন্তু এভাবেই মুসলমানরা দলাদলি করে নিজেরাই নিজেদেরকে হত্যা খুন লুটপাট রাহাজানি করছে।
তাহলে প্রশ্ন হলো - এ কোন ধরনের আল্লাহ যে চায় তার বান্দারা নিজেরা বিভিন্ন দল উপদলে বিভক্ত হয়ে মারামারি কাটাকাটি করুক এবং একটা ভয়াবহ বিশৃংখল ও অস্থির সমাজ উপহার দিক ?
সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোন পরম করুনাময়, দয়ালূ ও ন্যয়পরায়ন সৃষ্টিকর্তা এ ধরনের ষড়যন্ত্র করে মানুষকে মারামারি কাটাকাটি করে খুনাখুনি করার ব্যবস্থা করতে পারে না । আর তাই কোরান কোনমতেই আল্লাহর বানী হতে পারে না।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন