কোরান আসলে কার বানী ? পর্ব-১০
কোরানের পাতায় পাতায় স্ববিরোধী কথা বার্তায় পূর্ন। আগের ৯ টি পর্বে একের পর এক তা দেখান হয়েছে। এ পর্বেও একটা বড় ঘটনা দেখান হবে যাতে দেখা যাবে কোরান কি মারাত্মকভাবে স্ববিরোধী ও আজগুবি কাহিনী দ্বারা ভর্তি।
তাহলে প্রথমেই দেখা যাক , নিচের আয়াত ----------
কোন মানুষের জন্য এমন হওয়ার নয় যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন। কিন্তু ওহীর মাধ্যমে অথবা পর্দার অন্তরাল থেকে অথবা তিনি কোন দূত প্রেরণ করবেন, অতঃপর আল্লাহ যা চান, সে তা তাঁর অনুমতিক্রমে পৌঁছে দেবে। নিশ্চয় তিনি সর্বোচ্চ প্রজ্ঞাময়। সূরা আশ শুরা - ৪২: ৫১
উক্ত আয়াতে পরিস্কার ভাবে বলা হচ্ছে যে , আল্লাহর সাথে কথা বলবে এমন কোন মানুষ হতে পারে না। অর্থাৎ আল্লাহর সাথে কথোপথন করবে এমন কোন মানুষ হতে পারে না। এই আয়াতে একই সাথে বলছে যে - আল্লাহ কোন বার্তা কোন মানুষের কাছে পাঠাতে চাইলে সে সেটা পাঠায় তিনটি পদ্ধতিতে - ওহী , পর্দার অন্তরাল থেকে এবং দুত প্রেরন করে। খেয়াল করতে হবে প্রথমে আল্লাহ কথোপথন বা কথা বলার কথা বলছে। এখন আমরা দেখি যে তিনটি পদ্ধতিতে আল্লাহ মানুষের কাছে বার্তা পাঠায় তার মধ্যে একটা পদ্ধতি আছে যার মাধ্যমে আল্লাহ মানুষের সাথে কথোপথন করতে পারে আর সেটা হলো পর্দার অন্তরালে থেকে । তাহলে প্রথমেই কিভাবে আল্লাহ বলল যে দুনিয়ার কোন মানুষই আল্লাহর সাথে কথা বলতে পারে না ? এটা কি একটা স্ববিরোধী কথা নয়? বস্তুত আমরা কোরানে কিন্তু দেখতেও পারি যে আল্লাহ মানুষের সাথে কথা বলছে। সেটা দেখা যেতে পারে নিচের আয়াতগুলিতে----
সূরা নং-২০: তোয়াহা
আপনার কাছে মূসার বৃত্তান্ত পৌঁছেছে কি। ৯
তিনি যখন আগুন দেখলেন, তখন পরিবারবর্গকে বললেনঃ তোমরা এখানে অবস্থান কর আমি আগুন দেখেছি। সম্ভবতঃ আমি তা থেকে তোমাদের কাছে কিছু আগুন জালিয়ে আনতে পারব অথবা আগুনে পৌছে পথের সন্ধান পাব। ১০
অতঃপর যখন তিনি আগুনের কাছে পৌছলেন, তখন আওয়াজ আসল হে মূসা, ১১
আমিই তোমার পালনকর্তা, অতএব তুমি জুতা খুলে ফেল, তুমি পবিত্র উপত্যকা তুয়ায় রয়েছ। ১২
এবং আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, অতএব যা প্রত্যাদেশ করা হচ্ছে, তা শুনতে থাক। ১৩
আমিই আল্লাহ আমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। অতএব আমার এবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে নামায কায়েম কর। ১৪
কেয়ামত অবশ্যই আসবে, আমি তা গোপন রাখতে চাই; যাতে প্রত্যেকেই তার কর্মানুযায়ী ফল লাভ করে। ১৫
সুতরাং যে ব্যক্তি কেয়ামতে বিশ্বাস রাখে না এবং নিজ খাহেশের অনুসরণ করে, সে যেন তোমাকে তা থেকে নিবৃত্ত না করে। নিবৃত্ত হলে তুমি ধবংস হয়ে যাবে। ১৬
হে মূসা, তোমার ডানহাতে ওটা কি? ১৭
তিনি বললেনঃ এটা আমার লাঠি, আমি এর উপর ভর দেই এবং এর দ্বারা আমার ছাগপালের জন্যে বৃক্ষপত্র ঝেড়ে ফেলি এবং এতে আমার অন্যান্য কাজ ও চলে। ১৮
আল্লাহ বললেনঃ হে মূসা, তুমি ওটা নিক্ষেপ কর। ১৯
অতঃপর তিনি তা নিক্ষেপ করলেন, অমনি তা সাপ হয়ে ছুটাছুটি করতে লাগল। ২০
আল্লাহ বললেনঃ তুমি তাকে ধর এবং ভয় করো না, আমি এখনি একে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেব। ২১
তোমার হাত বগলে রাখ, তা বের হয়ে আসবে নির্মল উজ্জ্বল হয়ে অন্য এক নিদর্শন রূপে; কোন দোষ ছাড়াই। ২২
এটা এজন্যে যে, আমি আমার বিরাট নিদর্শনাবলীর কিছু তোমাকে দেখাই।২৩
ফেরাউনের নিকট যাও, সে দারুণ উদ্ধত হয়ে গেছে। ২৪
মূসা বললেনঃ হে আমার পালনকর্তা আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন। ২৫
এবং আমার কাজ সহজ করে দিন। ২৬
এবং আমার জিহবা থেকে জড়তা দূর করে দিন। ২৭
যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে। ২৮
এবং আমার পরিবারবর্গের মধ্য থেকে আমার একজন সাহায্যকারী করে দিন। ২৯
আমার ভাই হারুনকে। ৩০
উক্ত আয়াতগুলোতে দেখা যাচ্ছে আল্লাহ মুসা নবীর সাথে সরাসরি কথা বলছে। অর্থাৎ পরস্পর কথোপথন করছে। এখানে এমন কি মাঝে কোন পর্দা আছে সেটাও বোঝা যাচ্ছে না। এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে যে সে সময় মুসা আল্লাহকে সরাসরি দেখেছিল কি না। নাকি আল্লাহ তার সাথে পর্দার অন্তরালে থেকে কথা বলেছিল।
কোরান ৪২:৫১ আয়াত অনুযায়ী বলছে - আল্লাহর সাথে কথা বলতে পারে এমন কোন মানুষ হতে পারে না, আবার ২০: ৯-৩০ আয়াত বলছে আল্লাহ মূসা নবীর সাথে কথা বলেছিল আর মুসা ছিল একজন মানুষ। অর্থাৎ কোরান এখানে নিজেই নিজের সাথে স্ববিরোধীতা করছে তথা কোরান নিজেই নিজেকে একটা উদ্ভট , স্ববিরোধী ও কাল্পনিক কাহিনী হিসাবে প্রমান করছে। কোরান লিখতে গিয়ে মোহাম্মদ বা তার সাগরেদরা যে ভুলটি করেছেন তা হলো কথোপথন যে সামনা সামনি না থেকেও নানাভাবে করা যায়, সে সম্পর্কে কোন ধারনা না থাকা। শুধু পর্দার আড়াল থেকেই নয় , বর্তমানে দুরে বসে টেলিফোন বা ইন্টারনেটের মাধ্যমেও দুইজন ব্যক্তি কথোপথন করতে পারে এমন কি পরস্পরকে দেখতেও পারে। এমন কি একজন দুনিয়াতে আর একজন চান্দের দেশে থেকেও পরস্পর কথোপথন করতে পারে এখন। কোরান আল্লাহর কিতাব হলে সে নিশ্চয়ই জানত যে সামনা সামনি থাকা ছাড়াও নানা ভাবে কথোপথন করা যায় , তাই এ ধরনের ফালতু বা ভুল কথা সে বলত না।
কোরান শত শত স্ববিরোধী, উদ্ভট , উল্টা পাল্টা কথা বার্তা বলা ছাড়াও একটা ভয়ানক অপরাধ করেছে। যা কোন ভাবেই মার্জনীয় নয়। সেটা হলো - সে অন্য ধর্মের কিতাব সম্পর্কে ফালতু কথা বলেছে অথবা অন্য ধর্মের কিতাবের কাহিনীকে বিকৃত করে অবাস্তবভাবে প্রকাশ করেছে। বিষয়টা এমন - আমাদের পরিবারের গোপন কথা আমরা জানি না , ভিন দেশী কোন এক ছলিমুদ্দি বা করিমুদ্দি সবচাইতে ভালমত জানে। এটা কি বিশ্বাস যোগ্য? মুসলমানরাই দাবী করে ইসলামের কোরান হাদিস সম্পর্কে ভাল জানে আলেম ওলামারা , তাই ইসলাম জানতে গেলে তাদের কাছে যেতে হবে। তাই ইহুদি বা খৃষ্টান ধর্ম সম্পর্কে কেউ জানতে চাইলে তাকে ইহুদিদের রাব্বী বা খৃষ্টানদের পাদ্রীদের কাছে যেতে হবে। এটাই হবে যুক্তি যুক্ত। কিন্তু মুসলমানরা এ যুক্তি মানে না। অর্থাৎ যে যুক্তি তারা নিজেদের ইসলাম ধর্মের বিষয়ে ব্যবহার করে , ঠিক সেই একই যুক্তি তারা অন্য ধর্মে প্রয়োগ করবে না। এটা হলো এটা গোয়ার্তুমি, পাগলামি ও উন্মাদের মত আচরন। কোন সুস্থ ব্যক্তি এ ধরনের আচরন কখনই করবে না। কেন এ কথাগুলো বলা হলো ?
এ কারনে যে , দেখা যাবে , অন্য ধর্ম যেমন ইহুদী খৃষ্টান ইত্যাদি ধর্ম সম্পর্কে ইসলাম প্রচারকরা দাবী করে তারাই ইহুদিদের রাব্বি বা খৃষ্টানদের পাদ্রীদের চাইতে বেশী ইহুদি বা খৃষ্টান ধর্ম জানে। সেটা কিন্তু বর্তমানে আমরা প্রায়ই শুনতে পাই ইসলামিক টেলিভিশন বা ওয়াজ মাহফিলে। আর এছাড়া খোদ কোরান হাদিস তো আছেই। তার একটা অকাট্য প্রমান উপরে উল্লেখিত সূরা তোহার ৯ থেকে ৩০ পর্যন্ত আয়াতের ঘটনায়। উক্ত আয়াতে মুসার সাথে আল্লাহর কথোপথনের একটা ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। আর সেই ঘটনা কিন্তু সম্পূর্নই ইহুদিদের তৌরাত কিতাবে বর্ণিত ঘটনার বিপরীত। উক্ত আয়াত পড়ে কি বোঝার কোন কায়দা আছে কখন , কোন প্রসঙ্গে আল্লাহ মুসা নবীর সাথে কথা বলেছিল ? কোন কায়দা নেই , কিন্তু কোন মুসলমান এই আয়াতগুলো পড়ার পর সেটা স্বীকার করবে ? করবে না। কথা নেই বার্তা নেই , হঠাৎ করেই সম্পূর্ন অপ্রাসঙ্গিক ভাবে কোরান বলছে মূসা তার পরিবার বর্গ নিয়ে চলার সময় , একটা জায়গায় আগুন দেখতে পায় , সেখান থেকে আগুন আনতে গেলে আল্লাহ তার সাথে কথা বলে। এখন পরিবার বর্গ নিয়ে কোথায় যাচ্ছিল , কেন যাচ্ছিল এর কোন বর্ণনাই কিন্তু কোরানে নাই। অথচ কোরান দাবী করে সব ঘটনা বিস্তারিত ও পরিস্কারভাবে বর্ণিত আছে তাতে। এবার আমার খোদ তৌরাত থেকেই দেখি উক্ত ঘটনাটা আসলে কি --
যাত্রা পুস্তক( এক্সোডাস)
দেখা যাচ্ছে তৌরাত কিতাব বলছে মুসা যখন তার শশুরের মেষ চরাচ্ছিল তখন সে ঝোপের মধ্যে আগুন দেখে সেদিকে অগ্রসর হয় , আর কোরান বলছে মুসা যখন তার পরিবার বর্গ নিয়ে যাচ্ছিল তখন সে ঝোপের মধ্যে আগুন দেখে সেখান থেকে আগুন আনতে যায়। এখন তৌরাত কিতাবের ঘটনা সত্য নাকি কোরানে অবান্তরভাবে উল্লেখ করা মুসার ঘটনা সত্য? মামা বাড়ীর খবর কে ভাল জানে মা নাকি বাবা ?
এরপর কিভাবে বিশ্বাস করা হয়ে যে কোরান আল্লাহর কিতাব ?
তাহলে প্রথমেই দেখা যাক , নিচের আয়াত ----------
কোন মানুষের জন্য এমন হওয়ার নয় যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন। কিন্তু ওহীর মাধ্যমে অথবা পর্দার অন্তরাল থেকে অথবা তিনি কোন দূত প্রেরণ করবেন, অতঃপর আল্লাহ যা চান, সে তা তাঁর অনুমতিক্রমে পৌঁছে দেবে। নিশ্চয় তিনি সর্বোচ্চ প্রজ্ঞাময়। সূরা আশ শুরা - ৪২: ৫১
উক্ত আয়াতে পরিস্কার ভাবে বলা হচ্ছে যে , আল্লাহর সাথে কথা বলবে এমন কোন মানুষ হতে পারে না। অর্থাৎ আল্লাহর সাথে কথোপথন করবে এমন কোন মানুষ হতে পারে না। এই আয়াতে একই সাথে বলছে যে - আল্লাহ কোন বার্তা কোন মানুষের কাছে পাঠাতে চাইলে সে সেটা পাঠায় তিনটি পদ্ধতিতে - ওহী , পর্দার অন্তরাল থেকে এবং দুত প্রেরন করে। খেয়াল করতে হবে প্রথমে আল্লাহ কথোপথন বা কথা বলার কথা বলছে। এখন আমরা দেখি যে তিনটি পদ্ধতিতে আল্লাহ মানুষের কাছে বার্তা পাঠায় তার মধ্যে একটা পদ্ধতি আছে যার মাধ্যমে আল্লাহ মানুষের সাথে কথোপথন করতে পারে আর সেটা হলো পর্দার অন্তরালে থেকে । তাহলে প্রথমেই কিভাবে আল্লাহ বলল যে দুনিয়ার কোন মানুষই আল্লাহর সাথে কথা বলতে পারে না ? এটা কি একটা স্ববিরোধী কথা নয়? বস্তুত আমরা কোরানে কিন্তু দেখতেও পারি যে আল্লাহ মানুষের সাথে কথা বলছে। সেটা দেখা যেতে পারে নিচের আয়াতগুলিতে----
সূরা নং-২০: তোয়াহা
আপনার কাছে মূসার বৃত্তান্ত পৌঁছেছে কি। ৯
তিনি যখন আগুন দেখলেন, তখন পরিবারবর্গকে বললেনঃ তোমরা এখানে অবস্থান কর আমি আগুন দেখেছি। সম্ভবতঃ আমি তা থেকে তোমাদের কাছে কিছু আগুন জালিয়ে আনতে পারব অথবা আগুনে পৌছে পথের সন্ধান পাব। ১০
অতঃপর যখন তিনি আগুনের কাছে পৌছলেন, তখন আওয়াজ আসল হে মূসা, ১১
আমিই তোমার পালনকর্তা, অতএব তুমি জুতা খুলে ফেল, তুমি পবিত্র উপত্যকা তুয়ায় রয়েছ। ১২
এবং আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, অতএব যা প্রত্যাদেশ করা হচ্ছে, তা শুনতে থাক। ১৩
আমিই আল্লাহ আমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। অতএব আমার এবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে নামায কায়েম কর। ১৪
কেয়ামত অবশ্যই আসবে, আমি তা গোপন রাখতে চাই; যাতে প্রত্যেকেই তার কর্মানুযায়ী ফল লাভ করে। ১৫
সুতরাং যে ব্যক্তি কেয়ামতে বিশ্বাস রাখে না এবং নিজ খাহেশের অনুসরণ করে, সে যেন তোমাকে তা থেকে নিবৃত্ত না করে। নিবৃত্ত হলে তুমি ধবংস হয়ে যাবে। ১৬
হে মূসা, তোমার ডানহাতে ওটা কি? ১৭
তিনি বললেনঃ এটা আমার লাঠি, আমি এর উপর ভর দেই এবং এর দ্বারা আমার ছাগপালের জন্যে বৃক্ষপত্র ঝেড়ে ফেলি এবং এতে আমার অন্যান্য কাজ ও চলে। ১৮
আল্লাহ বললেনঃ হে মূসা, তুমি ওটা নিক্ষেপ কর। ১৯
অতঃপর তিনি তা নিক্ষেপ করলেন, অমনি তা সাপ হয়ে ছুটাছুটি করতে লাগল। ২০
আল্লাহ বললেনঃ তুমি তাকে ধর এবং ভয় করো না, আমি এখনি একে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেব। ২১
তোমার হাত বগলে রাখ, তা বের হয়ে আসবে নির্মল উজ্জ্বল হয়ে অন্য এক নিদর্শন রূপে; কোন দোষ ছাড়াই। ২২
এটা এজন্যে যে, আমি আমার বিরাট নিদর্শনাবলীর কিছু তোমাকে দেখাই।২৩
ফেরাউনের নিকট যাও, সে দারুণ উদ্ধত হয়ে গেছে। ২৪
মূসা বললেনঃ হে আমার পালনকর্তা আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন। ২৫
এবং আমার কাজ সহজ করে দিন। ২৬
এবং আমার জিহবা থেকে জড়তা দূর করে দিন। ২৭
যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে। ২৮
এবং আমার পরিবারবর্গের মধ্য থেকে আমার একজন সাহায্যকারী করে দিন। ২৯
আমার ভাই হারুনকে। ৩০
উক্ত আয়াতগুলোতে দেখা যাচ্ছে আল্লাহ মুসা নবীর সাথে সরাসরি কথা বলছে। অর্থাৎ পরস্পর কথোপথন করছে। এখানে এমন কি মাঝে কোন পর্দা আছে সেটাও বোঝা যাচ্ছে না। এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে যে সে সময় মুসা আল্লাহকে সরাসরি দেখেছিল কি না। নাকি আল্লাহ তার সাথে পর্দার অন্তরালে থেকে কথা বলেছিল।
কোরান ৪২:৫১ আয়াত অনুযায়ী বলছে - আল্লাহর সাথে কথা বলতে পারে এমন কোন মানুষ হতে পারে না, আবার ২০: ৯-৩০ আয়াত বলছে আল্লাহ মূসা নবীর সাথে কথা বলেছিল আর মুসা ছিল একজন মানুষ। অর্থাৎ কোরান এখানে নিজেই নিজের সাথে স্ববিরোধীতা করছে তথা কোরান নিজেই নিজেকে একটা উদ্ভট , স্ববিরোধী ও কাল্পনিক কাহিনী হিসাবে প্রমান করছে। কোরান লিখতে গিয়ে মোহাম্মদ বা তার সাগরেদরা যে ভুলটি করেছেন তা হলো কথোপথন যে সামনা সামনি না থেকেও নানাভাবে করা যায়, সে সম্পর্কে কোন ধারনা না থাকা। শুধু পর্দার আড়াল থেকেই নয় , বর্তমানে দুরে বসে টেলিফোন বা ইন্টারনেটের মাধ্যমেও দুইজন ব্যক্তি কথোপথন করতে পারে এমন কি পরস্পরকে দেখতেও পারে। এমন কি একজন দুনিয়াতে আর একজন চান্দের দেশে থেকেও পরস্পর কথোপথন করতে পারে এখন। কোরান আল্লাহর কিতাব হলে সে নিশ্চয়ই জানত যে সামনা সামনি থাকা ছাড়াও নানা ভাবে কথোপথন করা যায় , তাই এ ধরনের ফালতু বা ভুল কথা সে বলত না।
কোরান শত শত স্ববিরোধী, উদ্ভট , উল্টা পাল্টা কথা বার্তা বলা ছাড়াও একটা ভয়ানক অপরাধ করেছে। যা কোন ভাবেই মার্জনীয় নয়। সেটা হলো - সে অন্য ধর্মের কিতাব সম্পর্কে ফালতু কথা বলেছে অথবা অন্য ধর্মের কিতাবের কাহিনীকে বিকৃত করে অবাস্তবভাবে প্রকাশ করেছে। বিষয়টা এমন - আমাদের পরিবারের গোপন কথা আমরা জানি না , ভিন দেশী কোন এক ছলিমুদ্দি বা করিমুদ্দি সবচাইতে ভালমত জানে। এটা কি বিশ্বাস যোগ্য? মুসলমানরাই দাবী করে ইসলামের কোরান হাদিস সম্পর্কে ভাল জানে আলেম ওলামারা , তাই ইসলাম জানতে গেলে তাদের কাছে যেতে হবে। তাই ইহুদি বা খৃষ্টান ধর্ম সম্পর্কে কেউ জানতে চাইলে তাকে ইহুদিদের রাব্বী বা খৃষ্টানদের পাদ্রীদের কাছে যেতে হবে। এটাই হবে যুক্তি যুক্ত। কিন্তু মুসলমানরা এ যুক্তি মানে না। অর্থাৎ যে যুক্তি তারা নিজেদের ইসলাম ধর্মের বিষয়ে ব্যবহার করে , ঠিক সেই একই যুক্তি তারা অন্য ধর্মে প্রয়োগ করবে না। এটা হলো এটা গোয়ার্তুমি, পাগলামি ও উন্মাদের মত আচরন। কোন সুস্থ ব্যক্তি এ ধরনের আচরন কখনই করবে না। কেন এ কথাগুলো বলা হলো ?
এ কারনে যে , দেখা যাবে , অন্য ধর্ম যেমন ইহুদী খৃষ্টান ইত্যাদি ধর্ম সম্পর্কে ইসলাম প্রচারকরা দাবী করে তারাই ইহুদিদের রাব্বি বা খৃষ্টানদের পাদ্রীদের চাইতে বেশী ইহুদি বা খৃষ্টান ধর্ম জানে। সেটা কিন্তু বর্তমানে আমরা প্রায়ই শুনতে পাই ইসলামিক টেলিভিশন বা ওয়াজ মাহফিলে। আর এছাড়া খোদ কোরান হাদিস তো আছেই। তার একটা অকাট্য প্রমান উপরে উল্লেখিত সূরা তোহার ৯ থেকে ৩০ পর্যন্ত আয়াতের ঘটনায়। উক্ত আয়াতে মুসার সাথে আল্লাহর কথোপথনের একটা ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। আর সেই ঘটনা কিন্তু সম্পূর্নই ইহুদিদের তৌরাত কিতাবে বর্ণিত ঘটনার বিপরীত। উক্ত আয়াত পড়ে কি বোঝার কোন কায়দা আছে কখন , কোন প্রসঙ্গে আল্লাহ মুসা নবীর সাথে কথা বলেছিল ? কোন কায়দা নেই , কিন্তু কোন মুসলমান এই আয়াতগুলো পড়ার পর সেটা স্বীকার করবে ? করবে না। কথা নেই বার্তা নেই , হঠাৎ করেই সম্পূর্ন অপ্রাসঙ্গিক ভাবে কোরান বলছে মূসা তার পরিবার বর্গ নিয়ে চলার সময় , একটা জায়গায় আগুন দেখতে পায় , সেখান থেকে আগুন আনতে গেলে আল্লাহ তার সাথে কথা বলে। এখন পরিবার বর্গ নিয়ে কোথায় যাচ্ছিল , কেন যাচ্ছিল এর কোন বর্ণনাই কিন্তু কোরানে নাই। অথচ কোরান দাবী করে সব ঘটনা বিস্তারিত ও পরিস্কারভাবে বর্ণিত আছে তাতে। এবার আমার খোদ তৌরাত থেকেই দেখি উক্ত ঘটনাটা আসলে কি --
যাত্রা পুস্তক( এক্সোডাস)
দেখা যাচ্ছে তৌরাত কিতাব বলছে মুসা যখন তার শশুরের মেষ চরাচ্ছিল তখন সে ঝোপের মধ্যে আগুন দেখে সেদিকে অগ্রসর হয় , আর কোরান বলছে মুসা যখন তার পরিবার বর্গ নিয়ে যাচ্ছিল তখন সে ঝোপের মধ্যে আগুন দেখে সেখান থেকে আগুন আনতে যায়। এখন তৌরাত কিতাবের ঘটনা সত্য নাকি কোরানে অবান্তরভাবে উল্লেখ করা মুসার ঘটনা সত্য? মামা বাড়ীর খবর কে ভাল জানে মা নাকি বাবা ?
এরপর কিভাবে বিশ্বাস করা হয়ে যে কোরান আল্লাহর কিতাব ?

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন